
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি থেকে। ফলে বিদায় নিশ্চিত হয় প্যারাগুয়ের।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই আক্রমণে যায় ফ্রান্স। মুহূর্তেই পাল্টা আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স। জুল কুন্দে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের অর্ধে উঠে ডান পাশে উসমান দেম্বেলের কাছে পাস দেন। দেম্বেলে বক্সের ভেতরে নিচু ক্রস বাড়ালে সেখানে পৌঁছে যান কিলিয়ান এমবাপে। তবে শট নেওয়ার আগেই প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করে বিপদ সামলে নেয়।
১১ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে একক প্রচেষ্টায় এগোনোর চেষ্টা করেন এনসিসো। তবে মুহূর্তের মধ্যেই তাকে ঘিরে ফেলেন ফ্রান্সের একাধিক ডিফেন্ডার। শেষ পর্যন্ত উইলিয়াম সালিবা নিখুঁত ট্যাকলে বল কেড়ে নিয়ে ফ্রান্সের দখল ফিরিয়ে আনেন।
৩১ মিনিটে দারুণ একটি আক্রমণ গড়ে তোলে ফ্রান্স। ডান প্রান্তে বল পেয়ে বক্সে চমৎকার ক্রস তোলেন উসমান দেম্বেলে। সেখানে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে, কিন্তু ঠিক সময়ে লাফ দিতে না পারায় বলে স্পর্শ করতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত বল মাঠের বাইরে চলে যায়।
৩৩ মিনিটে চমৎকার বুদ্ধিদীপ্ত ছেড়ে দেওয়া পাস দেন ওলিসে। বলটি পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে শট নেন আদ্রিয়েন রাবিও। তবে তার প্রচেষ্টা লক্ষ্যে ছিল না; বল সোজা গোলের পেছনের গ্যালারিতে গিয়ে পড়ে।
৩৬ মিনিটে আন্দ্রেস কুবাসের ফাউলের পর এমবাপ্পেকে ঘিরে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ডেম্বেলেও সেই বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি। প্রথমার্ধে ৭৮ শতাংশ বলের দখল ও ছয়টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের দুটি শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে বিরতিতে দুই দলই গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। ফ্রান্স একের পর এক আক্রমণ চালালেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ছিল বেশ সংগঠিত। ৫৫ মিনিটে মানু কোনোয়ের দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক গিল। ৫৮ মিনিটে ইনজুরির কারণে ওমার আলদেরেতে এবং ৬১ মিনিটে হুলিও এনসিসো মাঠ ছাড়েন। তাদের পরিবর্তে নামেন হোসে কানালে ও গুস্তাভো কাবায়েরো। একই সময়ে ফ্রান্সও ব্র্যাডলি বারকোলার জায়গায় মাঠে নামায় দেজিরে দুয়েকে।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ৬৭ মিনিটে। প্যারাগুয়ের বক্সে দেজিরে দুয়ে ফাউলের শিকার হলে প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন রেফারি। পরে ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত বদলে ফ্রান্সকে পেনাল্টি দেন। ৭০তম মিনিটে স্পটকিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার সপ্তম গোল। আর এই গোলোর মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে আসেন।
গোল হজমের পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় প্যারাগুয়ে। ৯০ মিনিটে মৌরিসিওর দূরপাল্লার শট দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ান। অন্যদিকে যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করার একাধিক সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপ্পে। ৯৬তম মিনিটে টানা দুটি শট নিলেও দুটিই দুর্দান্ত সেভ করে প্যারাগুয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গোলরক্ষক অরলান্ডো গিল।
১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় শেষে আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে ফ্রান্স। এর ফলে শেষ আটে তাদের মুখোমুখি হবে মরক্কো।
আবা/এসআর/২৬