মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৬ | অনলাইন সংস্করণ
স্পোর্টস ডেস্ক

শেষ ষোলোয় নাটকীয় এক লড়াই দেখল ফুটবল বিশ্ব। মিশরের বিপক্ষে খেলতে নেমে প্রথমার্থে দুই গোলে পিছিয়ে পড়লেও চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল শোধ করে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দিলো আর্জেন্টিনা।
মোহামেদ সালাহর দল ম্যাচের শুরুতেই এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ৫৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে। তবে দমে যায়নি লিওনেল স্কালোনির দল। টুর্নামেন্টে কেনো তারা ফেভারিট তাই প্রমাণ করলেন আলবিসেলেস্তেরা। চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল শোধ করে ম্যাচে সমতা ফেরান লিওনেল মেসিরা। এরপর ম্যাচ যহন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর শঙ্কায় তখনই মোড় ঘুরিয়ে দেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ। ৯০ মিনিটের খেলা শেষে ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন চেলসির এই মিডফিল্ডার। তাঁর এই গোলেই শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা, মিশরকে বিদায় করে জায়গা করে নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে।
ম্যাচের ১৫তম মিনিটে মিনিটে মাঝমাঠ থেকে মারওয়ান আত্তিয়ার চমৎকার এক ক্রস থেকে হেড করে জালে বল জড়ান মিশরের ইয়াসির ইব্রাহিম। তবে এটা ছিল নাটকের কেবল শুরু।
গোল খাওয়ার পরপরই পেনাল্টি পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু দলকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ মিস করেন লিওনেল মেসি। এই নিয়ে বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার পেনাল্টি মিস করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
১০ মিনিট পর মেসির বাঁ পায়ের শট গোলবারের অনেক উপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটেই তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে আলভারেজ শট নেন। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল রুখে দেন মোস্তফা। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণাত্মক খেলে। তবে মিশরের রক্ষণভাগে ৯ জন খেলোয়াড় একদম জমাট বেঁধে দাঁড়িয়ে ছিল। মেসি শেষ পর্যন্ত কিছুটা জায়গা তৈরি করে রদ্রিগো ডি পলকে বল বাড়িয়ে দেন। কিন্তু ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া ডি পলের নিচু শটটি মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা সহজেই গ্লাভসবন্দী করেন।
পাল্টা আক্রমণ থেকে হাসানের বাড়ানো পাস ধরে মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান জিকো। এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে মিশর। জিকোর কাছ থেকে আসা একটি চমৎকার ফিনিশিংয়ে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু আক্রমণের শুরুর দিকে ফাউল হওয়ার কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।
হাসানের চমৎকার দৌড়ে সালাহর পাস এবং জিকোর ফিনিশিং মিলিয়ে এটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হতে পারতো। অন্য প্রান্তে ফাউলের জন্য ফ্রি কিক দেওয়া হয়।
৬৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে আর্জেন্টিনা। একটি বিধ্বংসী কাউন্টার অ্যাটাক থেকে হাসানের বাড়ানো পাস ধরে মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান জিকো।
৭৫ মিনিট পেরিয়ে গেলেও কোনো কামব্যাকের কোনো আভাস দেখাতে পারছিল না আর্জেন্টিনা। তবে এরপরই অবিশ্বাস্য কামব্যাক করে দলটি।
৭৯ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তারপর ডান দিক থেকে বাড়ানো মেসির একটি ক্রসে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান।
৮৪ মিনিটে সমতা ফেরান মেসি। গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বারের নিচের অংশে লেগে বলটি জোরালো শটে জালে জড়ায়। এই বিশ্বকাপে এটি মেসির অষ্টম গোল।
৪ মিনিটে দুই গোল করার পর গোলের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। কাউন্টার অ্যাটাকে বক্সের মাঝখান থেকে চমৎকার হেডে তৃতীয় গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। লাউতারো মার্টিনেজের বাড়ানো ক্রসে দুর্দান্তভাবে মাথা ছুঁইয়ে বলটিকে কোনাকুনি জালে জড়ান তিনি। আর তাতেই জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
আবা/এসআর/২৬
