অন্তিম মুহূর্তে দুই গোলের লিড হারিয়ে নাটকীয় জয় রিয়ালের
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১ | অনলাইন সংস্করণ

কার্লোস এস্পির শেষ মুহূর্তের গোলে রিয়াল মাদ্রিদ ৩-২ ব্যবধানে এলচেকে হারিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বার্সেলোনাকে স্পর্শ করেছে। দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ধাক্কা খাওয়া রিয়ালকে অন্তিম মুহূর্তে এসে রক্ষা করেন এই তরুণ স্ট্রাইকার।
চলতি মৌসুমে এসপানিওলের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেও অন্তিম মুহূর্তের লক্ষ্যভেদে দলকে বাঁচিয়েছিলেন এস্পি। মঙ্গলবার রাতের এই ম্যাচেও বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৯১ মিনিটে ব্যাক পোস্টে সুবিধাজনক অবস্থান থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে লেভান্তে থেকে সাইন করা এস্পি এখনো হোসে মরিনহোর একাদশে শুরুর সুযোগ পাননি, তবে তাঁর করা দুটি গোলই কোচের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে।
ছয় ম্যাচে পাঁচ জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার সাথে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে রিয়াল। বুধবার রেসিং সান্তান্দারকে আতিথ্য দেবে বার্সা। মৌসুমে প্রথমবারের মতো জুড বেলিংহামকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন মরিনহো, তাঁর জায়গায় একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় আরদা গুলারকে।
সম্প্রতি উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্প্যানিশ ভূখণ্ড সেউতায় ঘটে যাওয়া অভিবাসন সংকটের কারণে সেখানকার বাসিন্দাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়রাই বিশেষ টি-শার্ট পরে মাঠে নামেন। তবে কিলিয়ান এমবাপে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং ইব্রাহিমা কোনাতে টি-শার্টের নিচের অংশ অর্ধেক গুটিয়ে রাখায় তাঁদের "আমরা সবাই সেউতাবাসী" বার্তাটি খানিকটা অস্পষ্ট হয়ে যায়।
মৌসুমের শুরু থেকেই নিজের সেরা ফর্মের খোঁজে থাকা ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস মার্টিনেজ ভালেরো স্টেডিয়ামে আবার বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া করেন। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে গুলারের পাস থেকে শট লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন তিনি এবং পরবর্তীতে বক্সের প্রান্ত থেকেও মারেন পোস্টের বাইরে।
অন্যদিকে টেরে মোরেন্তে রিয়ালের রক্ষণে হুমকি তৈরি করলেও প্রথমার্ধেই লিড আদায় করে নেয় অতিথিরা। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে গুলারের ফ্রি-কিক ওয়ালের ওপর দিয়ে গিয়ে পোস্টে আঘাত হানে এবং বল এলচে গোলরক্ষক মাতিয়াস দিতুরোর গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালে জড়ায়।
আট মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে লস ব্লাঙ্কোসরা। রিয়ালের রেকর্ড চুক্তি ইয়ান দিওমান্দে ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম অ্যাসিস্টটি করেন। দ্বিতীয়বারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে আইভরি কোস্টের এই উইঙ্গার বক্সে সুন্দর এক ক্রস বাড়ান, যা ধরে গোলরক্ষক দিতুরোকে পরাস্ত করে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজের অষ্টম গোলটি করেন এমবাপে।
গোল করতে গিয়ে এমবাপে গোলরক্ষকের সাথে ধাক্কা খেয়ে আঘাত পেলেও দ্রুতই সুস্থ হয়ে খেলা চালিয়ে যান। দ্বিতীয় অর্ধেও দিওমান্দ্যের এক বুলেট গতিসম্পন্ন ক্রসে মাথা ছোঁয়ালেও তাঁর হেডার চলে যায় বার উঁচিয়ে।
কিছুক্ষণ পরেই মাঠ ছাড়তে হয় ভিনিসিয়ুসকে, যিনি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট করে আরও এক হতাশাজনক ম্যাচের ইতি টানেন। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়ায় এলচে। লুকাস সেপেদার নিখুঁত ক্রস থেকে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডারে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন আবিয়েল ওসোরিও।
এই গোল রিয়াল শিবিরে ভয় ঢুকিয়ে দেয় এবং ৮৩ মিনিটে তার ফায়দা তোলে এলচে। স্পেনীয় স্ট্রাইকার নিনো চমৎকার এক নিচু শটে ১৫ বারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে স্কোরবোর্ডে ২-২ সমতা ফেরান।
ম্যাচ ড্র হতে দেখে জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিনহো মাঠে নামান দুই তরুণ আক্রমণভাগের ফুটবলার এস্পি ও এন্দ্রিককে। আর মরিনহোর সেই বাজি শতভাগ সফল হয়। খেলার একদম অন্তিম মুহূর্তে বক্সে ফাঁকায় থাকা এস্পির উদ্দেশ্যে পাস বাড়ান এমবাপে, আর সহজ বল জালে জড়িয়ে রিয়ালকে রোমাঞ্চকর জয় উপহার দেন এস্পি।
দিনের অন্য ম্যাচগুলোতে আলাভেসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ভ্যালেন্সিয়া এবং এসপানিওলকে ২-১ ব্যবধানে পরাস্ত করেছে রায়ো ভ্যালেকানো।
