ব্রাজিলের খেলা নিয়ে সমালোচনা, 'কিছু যায়-আসে না' আনচেলত্তির
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২০ | অনলাইন সংস্করণ

ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালনে নিজের ওপর আসা কঠোর সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন কার্লো আনচেলত্তি। তবে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী কোপা আমেরিকা ও ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের দল গড়ার যে পরিকল্পনা তিনি হাতে নিয়েছেন, তার ওপর এই সমালোচনার প্রভাব পড়বে 'শূন্য'।
গত শুক্রবার টাউনসভিলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল, যেখানে ৯৫ মিনিটে রায়ানের হেডে অলৌকিকভাবে হার এড়ায় সেলেসাওরা। গত বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে নকআউট পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর এটিই ছিল দলটির প্রথম ম্যাচ।
টানা দ্বিতীয় পরাজয় এড়িয়ে গেলেও ব্রাজিলের পারফরম্যান্স দেশে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ডেনিলসন এই পারফরম্যান্সকে অত্যন্ত 'বাজে' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, ধারাভাষ্যকার গালভাও বুয়েনো এটিকে 'লজ্জাজনক' বলেছেন এবং সাংবাদিক হোসে ত্রাজানো আনচেলত্তির বরখাস্তের দাবিও তুলেছেন।
মঙ্গলবার ব্রিসবেনের ল্যাং পার্কে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ফুটবল ফোরামে কথা বলতে গিয়ে আনচেলত্তি বলেন, "আমার কাজ নিয়ে সমালোচনা সবসময়ই ছিল এবং থাকবে। তবে এই সমালোচনা জাতীয় দল এবং এই খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার চিন্তাধারায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। কতটা প্রভাব ফেলবে? শূন্য!"
চলতি বছরের মে মাসে চার বছরের চুক্তি নবায়ন করা এই অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ স্বীকার করেছেন যে ব্রাজিল দলের দায়িত্ব সামলানো মানেই বিপুল প্রত্যাশার চাপ। তিনি জানান, বর্তমানে ২৬ সদস্যের দলের ১৭ জনেরই ১০টির কম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনই একদমই নতুন। নটিংহ্যাম ফরেস্টের জাইর, পিএসভির মাউরো জুনিয়র এবং ম্যানচেস্টার সিটির ভিটর রেইসের মতো তরুণরা ইতিমধ্যে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক করেছেন। ১৭, ১৮ ও ১৯ বছর বয়সী উঠতি প্রতিভাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য তৈরি করাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচের পর দল নিয়ে অক্টোবরে ভারতে যাবে ব্রাজিলের মূল দলটি, যেখানে তারা কলকাতায় স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে। আনচেলত্তি জানান, অফিসিয়াল প্রতিযোগিতার জন্য চূড়ান্ত দল বাছাই করার আগে তিনি তাঁর সব খেলোয়াড়কে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে নিতে চান যাতে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত না হয়।
ব্রাজিলের দায়িত্ব সামলানোর মানসিক চাপ ও লক্ষ্য নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, "জাতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রত্যাশা অনেক উঁচুতে থাকে। এখানে আপনাকে বিশ্বকাপ জিততেই হবে। আমার ক্যারিয়ারে এমন কোনো বছর মনে পড়ে না যেখানে প্রত্যাশা কম ছিল। এটি সবসময়ই উঁচুতে থাকা উচিত এবং কাজের জন্য আমাদের সেরাটা দিতে হবে।"
বর্তমানে ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে ১০ জন আনক্যাপড (অভিজ্ঞতাহীন) খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দল নির্বাচনের নতুন নীতির কথা স্পষ্ট করেন কোচ, "আমাদের মূল অগ্রাধিকার হলো এমন এক নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরি করা যারা নিকট ভবিষ্যতে জাতীয় দলকে টেনে নিয়ে যাবে। এক বছর আগেও যারা ক্লাবে খেলত না, তাদের ডাকা হতো না। কিন্তু এখন যদি কোনো খেলোয়াড় ক্লাবে নিয়মিত নাও খেলে, তবে আমরা যদি তাকে জাতীয় দলের ভবিষ্যতের জন্য ভালো মনে করি, আমি তাকে ডাকব।"
১৭, ১৮ ও ১৯ বছর বয়সী তরুণ প্রতিভা খোঁজার বিষয়ে তিনি যোগ করেন, "নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়দের পরখ করে দেখার জন্য এটি সত্যিই একটি রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। আমরা তরুণ খেলোয়াড়দের দিকে নজর রাখছি এবং আশা করি তাদের দ্রুত বিকাশে সাহায্য করতে পারব।"
