অনলাইন সংস্করণ
১৩:২১, ০২ অক্টোবর, ২০২৬
ক্রিকেটের আইন ও খেলার শর্তে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। খেলার গতি বাড়ানো, সময় নষ্ট কমানো, বলের মাপ নির্ধারণ এবং ফিল্ডিংসংক্রান্ত বিষয় আরও স্পষ্ট করতেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
তবে ১ অক্টোবরের আগে শুরু হওয়া কোনো সিরিজে এসব পরিবর্তিত নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ চলমান সিরিজগুলো পুরোনো নিয়মেই শেষ হবে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার আসন্ন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজেও নতুন নিয়ম কার্যকর থাকবে।
আইসিসির ওয়েবসাইটের ‘রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস’ অংশে ছেলে ও মেয়েদের সব ফরম্যাটের হালনাগাদ নিয়ম প্রকাশ করা হয়েছে।
আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট কমিটির সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন, খেলার শর্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ক্রিকেট বল, ফিল্ডিং এবং খেলার গতি বাড়ানোর বিষয়গুলো রয়েছে। তার ভাষ্য, আধুনিক ক্রিকেটের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি খেলার সততা ও ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে।
যে ১০ নিয়মে পরিবর্তন
১. ব্যাটার প্রস্তুত না হলে শাস্তি
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাটার বল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত না হলে প্রথমবার সতর্ক করা হবে। দ্বিতীয়বার দেওয়া হবে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। এরপর প্রতিবার একই ঘটনা ঘটলে ফিল্ডিং দল ৫ রান পাবে। বারবার এমন হলে আচরণবিধির ধারাও প্রয়োগ করা হতে পারে।
২. মেয়েদের ক্রিকেটে বলের মাপ ও ওজনে নতুন মান
ছেলে, মেয়ে ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য এখন বলের মাপ ও ওজনের আলাদা তিনটি মান নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩. ওভারথ্রো নিয়ে স্পষ্ট নিয়ম
স্ট্যাম্পের দিকে বল ছুড়ে রান আটকানো বা রানআউটের চেষ্টা করতে গিয়ে ভুল হলে সেটিকে ওভারথ্রো হিসেবে ধরা হবে। তবে বল থামাতে গিয়ে ভুল করা কিংবা অন্য ফিল্ডারের কাছে বল দিতে গিয়ে ভুল করাকে ওভারথ্রো বলা হবে না।
৪. বল ‘ডেড’ হওয়ার সিদ্ধান্তে আম্পায়ারের ক্ষমতা বাড়ল
বল কখন পুরোপুরি ‘ডেড’ হয়েছে, সে বিষয়ে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের ক্ষমতা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। এখন বল বোলার বা উইকেটকিপারের হাতেই থাকতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
৫. রানআউট ও স্টাম্পিংয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ জরুরি
রানআউট বা স্টাম্পিংয়ের সময় বল ফিল্ডারের হাতে আছে বলে বিবেচিত হতে হলে বলের ওপর তার পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। স্টাম্প ভাঙার সময় শুধু বলের সঙ্গে হাতের স্পর্শ থাকলেই সেটিকে বলের নিয়ন্ত্রণে থাকা হিসেবে গণ্য করা হবে না।
৬. টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ
খারাপ আলোর কারণে খেলা নষ্ট হওয়ার ঘটনা কমাতে পরীক্ষামূলকভাবে দিনের বেলায় টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহার করা যাবে। তবে এ জন্য দুই দলকে সম্মত হতে হবে এবং টেস্ট শুরুর আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পুরো ম্যাচে একই বল ব্যবহার করতে হবে। ম্যাচ শুরুর পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে না এবং লাল বল থেকে গোলাপি বলে পরিবর্তনের সুযোগও থাকবে না।
৭. দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও খেলা চলবে
দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়ে গেলেই খেলা শেষ করা যাবে না। আবহাওয়া ও অন্যান্য পরিস্থিতি খেলার উপযোগী থাকলে ওই ওভারের বাকি বলগুলো শেষ করতে হবে। আইসিসির মতে, আগের নিয়মে সময় সাশ্রয় হতো না; কারণ বাকি বলগুলো পরের দিন করতে হতো। নতুন নিয়মে খেলার ধারাবাহিকতাও বজায় থাকবে।
৮. টি-টোয়েন্টিতে বিরতি কমানোর সুযোগ
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইনিংসের মাঝের বিরতি থাকবে ১৫ মিনিট। তবে খেলায় সময় নষ্ট হলে এই বিরতি কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে।
৯. ড্রিংকস ব্রেকে মাঠে যেতে পারবেন কোচ
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ড্রিংকস ব্রেকের সময় হেড কোচ অথবা তার মনোনীত ব্যক্তি মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে দুই ফরম্যাটের নিয়ম একই করা হয়েছে।
১০. ওয়াইডের নিয়ম স্থায়ী হলো
ওয়াইড বলের নতুন নিয়ম এতদিন পরীক্ষামূলকভাবে চালু ছিল। এখন সেটিকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্থায়ী নিয়ম করা হয়েছে। বল করার মুহূর্তে ব্যাটারের পায়ের অবস্থানকে ওয়াইড নির্ধারণের মাপকাঠি ধরা হবে। বল করার পর ব্যাটার অফ সাইডের দিকে সরে গেলেও আগের অবস্থানই বিবেচনায় থাকবে।