আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৬-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বৈঠক আজ

কোন্দল মেটাতে রাজশাহীর নেতাদের কেন্দ্রে তলব

রাজশাহী ব্যুরো
| শেষ পাতা

সামনে নির্বাচন। কিন্তু রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। মহানগর আওয়ামী লীগে তেমন দ্বন্দ্ব না থাকলেও জেলা নেতাদের মধ্যে দুটি বলয় তৈরি হয়েছে। একটি বর্তমান সংসদ সদস্যদের এবং অন্যটি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের। দলীয় কর্মসূচিতে দুই গ্রুপের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। তাই রাজশাহীর নেতাদের তলব করেছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

জানা গেছে, আজ সকালে ঢাকায় দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি নেতাদের অভিযোগ ও দাবিদাওয়া শুনবেন। শুক্রবার এ সভার ফল জানানো হবে দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে। এ দিন সকালে শেখ হাসিনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে সভা করবেন। থাকবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরাও। আসন্ন নির্বাচনের আগেই নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে। ওমর ফারুক চৌধুরী রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য। এ আসনে আওয়ামী লীগের সাত নেতা আসন্ন নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চান। এদের সঙ্গে ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরোধ। আবার আসাদের সঙ্গে ওমর ফারুক চৌধুরীর মতবিরোধ থাকায় মনোনয়ন প্রত্যাশী ওই সাত নেতা আসাদের অনুগত।

এভাবে রাজশাহী-৫ ও ৬ আসনেও বর্তমান সংসদ সদস্য ও আসাদুজ্জামান আসাদের দুটি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। রাজশাহী-৪ আসনেও একই অবস্থা। তবে এ আসনটির সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের সঙ্গে আসাদের ভালো সম্পর্ক। আসাদ নিজে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসন থেকে নির্বাচন করতে দলের মনোনয়ন চান। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের সঙ্গে তার তুমুল বিরোধ। তবে ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে আয়েনের সম্পর্ক ভালো।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। শরিক দলের সংসদ সদস্য থাকায় এখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নেই। বিরোধ নেই ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাদের সঙ্গেও। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-ওয়ার্কার্স পার্টি একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। মেয়র পদে জয় নিশ্চিত হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের। এ নির্বাচনে আসাদুজ্জামান আসাদও নৌকার পক্ষে ভূমিকা রাখেন।
রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হকের সঙ্গে বাগমারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদের বিরোধ রয়েছে। সান্টু ও কালাম সংসদ সদস্য এনামুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। তারা আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিজেদের নাম দিয়েছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর সান্টু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারান। কিন্তু সান্টু-কালামসহ তাদের অনুসারীরা এখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে যাচ্ছেন।
রাজশাহী-৫ আসনেও বর্তমান সংসদ সদস্য কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী সাত নেতা। সম্প্রতি জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে তারা ওয়াদুদ দারাকে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে আসাদুজ্জামান আসাদ সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারাকে ইঙ্গিত করে বলেন, আপনাদের বলে দিতে চাই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে বিক্রি করে কেউ যদি  টাকার মালিক হন, আর যাই হোক তাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়ন দেবেন না। মাঠে-ময়দানে বক্তৃতা করার দরকার আছে বলে মনে করি না, শেখ হাসিনা এ অপদার্থদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। আপনারা যেভাবে রায় দেবেন, আপনাদের মনের কথা নিয়েই শেখ হাসিনা প্রার্থী দেবেন।
রাজশাহী-৬ আসনে আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে লড়তে চান বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি ছাড়াও এখানে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান সাবেক সংসদ সদস্য ও  জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রায়হানুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাস আলীসহ কয়েকজন মনোনয়ন চান। তারা আসাদুজ্জামান আসাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। নেতাদের অন্তর্কলহ ও পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষমূলক প্রচারণায় এ আসনেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি ক্ষয়িষ্ণু।