আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে?

শামীম শিকদার
| সম্পাদকীয়

বাংলাদেশে যে কয়েকটি শিশুমৃত্যুর উল্লেখযোগ্য কারণ রয়েছে তার মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যু অন্যতম। অথচ অভিভাবকদের একটু সচেতনতাই পারে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর এই হারকে অনেকাংশে কমিয়ে আনতে। 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পানিতে ডোবাসহ বিভিন্ন ধরনের জখমে মৃত্যু ও আহতদের নিয়ে ২০১৬ সালে জাতীয় জরিপ করে। তাতে দেখা যায়, প্রতিদিন ৫৩ জনের মৃত্যু হচ্ছে পানিতে ডুবে। এর মধ্যে ১ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু-কিশোর ৪০ এবং বয়স্ক ১৩ জন। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৬ সালে সারা দেশে পানিতে ডুবে মারা গেছে ১৯ হাজার ২৪৭ জন। এর মধ্যে শিশু ১৪ হাজার ৪৩৮ জন। বয়স্ক মানুষ মারা গেছেন ৪ হাজার ৮০৯ জন।
জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৬ জন মানুষ পানিতে ডুবে আহত হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন কমপক্ষে ৩৯৬ জন পানিতে ডুবে আহত হয়। মেডিকেল জার্নালের এক প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে বিভিন্ন রোগে শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। তবে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার বেড়েছে। নব্বইয়ের দশকে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুমৃত্যুর ২০ শতাংশ ঘটত পানিতে ডুবে। ২০১১ সালে এ হার বেড়ে ৪৩ শতংশে দাঁড়িয়েছে।
পানিতে ডুবে মৃত্যু বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ হলেও তা প্রতিরোধে সরকারের দেশব্যাপী কোনো কর্মসূচি নেই। পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ফলে যেমন একটি পরিবার সন্তান হারায়, তেমনি দেশ হারায় তার মূল্যবান মানবসম্পদ। তাই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধ করতে হলে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। যদি অভিভাবক তার শিশুটির ওপর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ১টা পর্যন্ত ভালোভাবে নজর রাখে, তাহলে শিশুমৃত্যুর হার অনেকটা কমে আসবে। কারণ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এ সময়েই শিশুমৃত্যুর হার বেশি। ডোবা ও পুকুরের চারপাশে বেড়া দেওয়া। ১০ মাস থেকে ৩ বছর বয়সি শিশুদের প্রতি পরিবারের, বিশেষ করে মায়ের সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং ৪ বছর বয়স থেকে শিশুকে সাঁতার শেখানো। পানি থেকে তোলার পর পরই শিশুকে কার্যকর প্রাথমিক চিকিৎসা অর্থাৎ শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে সাহায্য করা; কারণ এ সময় শিশু অক্সিজেন-স্বল্পতায় ভোগে। শিশুকে দ্রুত হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার ব্যবস্থা করা। বালতির পানিতে ডুবে গিয়ে, পুকুরে পড়ে গিয়ে, বাড়ির পাশে ডোবায় পড়ে গিয়ে শিশুমৃত্যু সংঘটিত হয়ে থাকে। যদি বাড়ির আশপাশে পুকুর বা ডোবা থাকে, তাহলে বাড়ির শিশুটির প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেহেতু প্রতি বছর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা বেড়ে যায়। তাই এ সময় শিশুদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। 

সম্পাদক, মাসিক কিশোর আনন্দ
ভকোয়াদী, কাপাসিয়া, গাজীপুর