আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৭-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

মানব উন্নয়ন সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ

এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে

| সম্পাদকীয়

এটা অত্যন্ত সুখবর যে, বৈশ্বিক মানব উন্নয়ন সূচকে আগেরবারের চেয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী বৈশ্বিক মানব সূচকে তিন ধাপ এগিয়ে ১৩৬তম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এবার বিশ্বের ১৮৯টি দেশকে নিয়ে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। এর আগের বছর ২০১৭ সালের সূচকে ১৮৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩৯তম। শুক্রবার প্রকাশিত ইউএনডিপির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে প্রকাশ, গড় আয়ু, মাথাপিছু আয়সহ বিভিন্ন আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়েছে। উল্লেখ্য, মানুষের অগ্রগতি তুলে ধরতে জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে ইউএনডিপির মানব উন্নয়ন সূচক তৈরি করা হয়। ১৮৯টি দেশ ও অঞ্চল নিয়ে তৈরি করা সূচকে নেতৃত্ব দিচ্ছে নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড ও জার্মানি। আর তলানিতে রয়েছে নাইজার, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ সুদান, চাদ ও বুরুন্ডি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর মানব উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা, তালিকায় দেশটির অবস্থান ৭৬তম। এই অঞ্চলের আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে পঞ্চম স্থানে। শ্রীলঙ্কার পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে মালদ্বীপ (১০১তম), ভারত (১৩০তম) ও ভুটান (১৩৪তম)।
ইউএনডিপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশ্বব্যাপী সার্বিকভাবে মানব উন্নয়নে অগ্রগতি হচ্ছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ১৮৯টি দেশের মধ্যে বর্তমানে ৫৯টি দেশ খুব উচ্চ মানব উন্নয়ন গ্রুপে রয়েছে। নিম্ন গ্রুপে আছে মাত্র ৩৮টি দেশ। আট বছর আগে ২০১০ সালে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪৬ ও ৪৯। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধংদেহী ও অস্থিরতার মধ্যে মানব উন্নয়নের অগ্রগতি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা প্রদান করছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন আশাব্যঞ্জক বলতে হবে। মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলা টেকসই উন্নয়নের পথই তৈরি করছেÑ এটা ভাবা যেতেই পারে। 
বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে রোল মডেলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ। উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শর্ত মানবীয় চাহিদাগুলোর সহজপ্রাপ্যতা। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং ক্রয়ক্ষমতার ক্রমোন্নতি জনগণের জীবনমানকে ক্রমেই স্বস্তিকর করে তোলে। আশার কথা হলো, এসব খাতে দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে। তবুও বলা যায়, দেশের বড় একটি অংশ এখনও মৌলিক সুবিধাগুলো পুরোপুরি অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। যথার্থ কারণেই এ অবস্থায় সরকারের যথেষ্ট করণীয় রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন সুবিধাগুলো যাতে জনগণ বৈষম্যহীনভাবে উপভোগ করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। মানব উন্নয়ন সূচকের অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। হ