আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৩-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

দুই কোরিয়ার মৈত্রী

বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা

| সম্পাদকীয়

ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে প্রধান পরীক্ষা এবং উদ্বোধনকেন্দ্র বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন এ তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া একটি পরমাণুকেন্দ্রও বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন কিম। উত্তর কোরিয়ার এমন পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে অভিনন্দনযোগ্য ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আলাদা হয় দুই কোরিয়া। তখন থেকেই এক জাতি হয়েও দুই কোরিয়ার মধ্যে সৃষ্টি হয় চরম বৈরিতা। ১৯৫০ সাল থেকে তিন বছরেরও বেশি সময় উভয় দেশের মধ্যে চলে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। ওই যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে ছিল চীন ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া), আর দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে ছিল জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ পশ্চিমা জোট। যুদ্ধে আনুমানিক সাড়ে ৭ লাখ উত্তর কোরীয় ও পৌনে ২ লাখ দক্ষিণ কোরীয় নিহত হন। উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও বিভিন্ন সময় দুই কোরিয়ার সীমান্তে উত্তেজনা দেখা গেছে। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়া বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে পেয়েছে, অপরদিকে উত্তর কোরিয়ার পাশে থেকেছে চীন। সবশেষ গেল বছরের শুরু থেকে এ বছরের শুরু পর্যন্ত উপদ্বীপটি ঘেঁষে সামরিক যুদ্ধযানের মহড়াও আতঙ্ক ছড়াচ্ছিল। উত্তরের দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও ‘পরমাণু বোমা’র পরীক্ষার প্রস্তুতির খবরে মিত্র দক্ষিণকে ‘রক্ষায়’ প্রশান্ত মহাসাগরে যুদ্ধবিমানবাহী একাধিক রণতরী পাঠায় যুক্তরাষ্ট্রও। উত্তর কোরিয়াকে ‘শায়েস্তা’ করতে ওয়াশিংটন হুমকি দিলে পিয়ং ইয়ং উল্টো তাদেরই ‘পস্তানো’র হুঁশিয়ারি দেয়। তবে ‘শান্তিকামী’ মুনের প্রচেষ্টায় এবং চীনের মধ্যস্থতায় উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা কমে আসে। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুই প্রেসিডেন্ট কিম জং উন ও মুন জায়ে ইন দুই দেশের সীমান্তগ্রাম ‘পানমুনজমে’ এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন শান্তির বার্তা নিয়ে। সিঙ্গাপুরে আলোচনায় বসেন কিম জং উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উভয়ই আগ্রহ দেখান শান্তি প্রক্রিয়ায়। এ সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুই কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের পর উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দেয়। 
কয়েক বছর ধরে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেভাবে বাগ্বিত-া শুরু হয়েছিল, তা যুদ্ধে রূপ নিলে নিঃসন্দেহে পৃথিবীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেত। এমন পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের চাওয়া ছিল শান্তিপূর্ণ সমাধান। কেননা দুটি বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পৃথিবীবাসী দেখে ফেলেছে তা কতটা ভয়াবহ হতে পারে মানবতার জন্য। পৃথিবীতে মারণাস্ত্র তৈরিতে বছরের পর বছর যে অর্থ খরচ হয়, তা যদি মানুষের শান্তির জন্য ব্যয় করা হতো, তা নিশ্চিতভাবেই মানবতার মঙ্গল বয়ে আনত। তাই অস্ত্রের প্রতিযোগিতা নয়, শান্তিই সাধারণ মানুষের চাওয়া। এই মুহূর্তে শান্তির যে সুবাতাস বইছে কোরিয়া অঞ্চলে, তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়–কÑ বিশ্ব হোক যুদ্ধ ও ধ্বংসমুক্তÑ এটাই প্রত্যাশা।