আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৫-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে এশিয়ার বৈশ্বিক রাজনীতি

রায়হান আহমেদ তপাদার
| সম্পাদকীয়

কাতার বিশ্বের সবচেয়ে বড় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক। এ গ্যাসের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যায় জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, তাইওয়ান, চীন ও থাইল্যান্ডে। অন্যদিকে ভারত একাই কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬৫ শতাংশ আমদানি করে। এসব চুক্তি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে হয়ে থাকে, যার বাজারের বেশিরভাগটাই আঞ্চলিক। সম্প্রতি পূর্ব এশিয়া এ গ্যাসের সবচেয়ে বেশি দাম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যে এলএনজির বাণিজ্য হয়, 
তার এক-তৃতীয়াংশের উৎপত্তি কাতারে। ফলে এশীয় দেশগুলোর পক্ষে কাতারের 
বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন, যেটা তেলের ক্ষেত্রে হয়নি

পরাশক্তি হিসেবে গণচীনের উত্থানের সমূহ সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া বেশ আগেই শুরু হয়েছে। আর এ সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত লক্ষণীয়। স্নায়ুযুদ্ধকালীন ভারত সোভিয়েত পরাশক্তিরই তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু ১৯৯০ সালের সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ভারত তাদের বৈশ্বিক অবস্থান পরিবর্তন করেছে। তারা আর পতিত পরাশক্তির শবদেহ বহন করতে চায়নি। কারণ দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা। এছাড়াও ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যাও বেশ প্রকট। বিশেষ করে কাশ্মীরের মুসলমানদের স্বাধীনতা আন্দোলন, পাঞ্জাবের শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সেভেন সিস্টারের স্বাধীনতা আন্দোলন অন্যতম। এছাড়াও চীন-ভারত সীমান্তে উভয় দেশের অমীমাংসিত ইস্যু, উত্তাল পাক-ভারত সীমান্ত ভারতের জন্য বেশ ভাবনার বিষয়। এদিকে বাংলাদেশকে ভারতের যতই ক্ষুদ্র ও দুর্বল প্রতিবেশী মনে করা হোক না কেন ভারত কিন্তু বিষয়টি নিয়ে নির্লিপ্ত নয়। এর প্রমাণ মেলে ভারতের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসীমা রাওয়ের বক্তব্য থেকে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা পশ্চিমের শত্রুর কথা ভাবতে ভাবতে আগের শত্রুর কথা বেমালুম ভুলে গেছি, যা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।’ এখন থেকে কুড়ি বছর আগে হঠাৎ করেই এশীয় আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছিল। এ সংকট মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেই প্রকট রূপ ধারণ করেছিল। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি তখন খুব একটা উন্মুক্ত ছিল না বলে এর নেতিবাচক প্রভাব তেমন পড়েনি।
কিন্তু আঞ্চলিক এ আর্থিক সংকট পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে বিরাট ধাক্কা দিয়েছিল। অন্যান্য অঞ্চলের অর্থনীতি এশীয় আর্থিক সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ব্যবসাবাণিজ্য নতুন করে সতর্কতার বিষয়টি মাথায় রেখে সাজাতে মনোযোগী হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এর এক দশকের মাথায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ঠিকই বড় আকারের আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছিল। সেই সংকট থেকে জাপানও বাদ পড়েনি। উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি এখনও সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অবশ্য আইএমএফ বলছে, একমাত্র যুক্তরাজ্য ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ধীরে হলেও বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি এখনও তলানিতেই রয়ে গেছে। তার মানে উন্নত বিশ্বের অর্থনীতির মৌলিক কাঠামোগত দুর্বলতা এখনও রয়েই গেছে। এশীয় আর্থিক সংকটের সেই সময়ে আঞ্চলিক এ অর্থনীতির মৌলিক কাঠামোগত দুর্বলতা প্রকটভাবেই দেখা দিয়েছিল। পাশাপাশি এ সংকটে আক্রান্ত দেশগুলোর (থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ইত্যাদি) আর্থিক নীতিতে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছিল। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে ঢালাওভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তাতে দুর্বলতা ছিল। একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রার হিসাব খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তও ছিল অসময়োপযোগী। পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল আশাতীতভাবে ঊর্ধ্বমুখী। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল অনন্য উচ্চতায়। ডলারের সঙ্গে প্রায় সব মুদ্রার গাঁটছড়া ছিল মজবুত। দেশগুলো গৃহায়ণ খাতসহ বিভিন্ন খাতে বিদেশি মুদ্রায় মাত্রাতিরিক্ত ঋণ গ্রহণে ছিল উদার। তাই বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ঋণ আকারে আসছিল ওইসব দেশে।
কাতার ও তার শাসনাধীন পশ্চিম এশীয় অঞ্চলে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাব এশিয়াজুড়ে এরই মধ্যে অনুভূত হচ্ছে। যেসব এশীয় কোম্পানি কাতারে বিনিয়োগ করেছিল, তাদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, আঞ্চলিক স্টক মার্কেটের ফলাফল দেখে তা বোঝা যাচ্ছে। এছাড়া এ সংকটের প্রভাব খুবই সুদূরপ্রসারী হবে, যেটা আমরা বুঝতে শুরু করেছি। শুধু প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারকদের ওপরই নয়, আরও অনেকের ওপরই এর প্রভাব পড়বে। জুন মাসের শুরুর দিকে আফ্রিকা ও এশিয়ার নয়টি দেশ কাতারের সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। অন্যদিকে জিবুতি ও জর্ডান কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক হ্রাস করে। এ গোষ্ঠী কাতারের সঙ্গে বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই প্রদর্শনীর লক্ষ্য হচ্ছে কাতার যেন হামাসসহ অন্যান্য ইসলামি গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে। দোহা বহুদিন ধরে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন দিয়ে আসছে, তারা ইউসুফ আল-কারাদাওয়িকে নাগরিকত্ব দিয়েছে। এ বিতর্কিত প-িত আত্মঘাতী বোমা হামলার সাফাই গান। কাতার স্বীকার করেছে, তাদের সঙ্গে বেশকিছু ন্যক্কারজনক গোষ্ঠীর সম্পর্ক আছে। কাতার সরকারের ভাষ্যমতে, তার এ সম্পর্কের মোজেজা হচ্ছে আঞ্চলিক বিবাদে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে তারা এ সম্পর্ক বজায় রাখে। তবে সংকটের মধ্যেও কাতারের আমির ইফতার অনুষ্ঠানে আল-কারাদাওয়িকে দাওয়াত দেন এবং তিনি তাতে যোগ দেন। এশীয় দেশগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত মালদ্বীপ এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের খেলায় যোগ দিয়েছে। এ দেশটির অভিজাত শ্রেণির মানুষ ক্রমেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাববলয়ে ঢুকে যাচ্ছেন। মালদ্বীপের মুসলমান তরুণরা চরমপন্থায় দীক্ষিত হচ্ছেন, যা নিয়ে দেশটির সরকার উদ্বিগ্ন। জনসংখ্যার অনুপাতে এ দেশটির তরুণরাই সিরিয়া ও ইরাকে সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ করতে গেছেন।
দিল্লিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সোসাইটি ফর দ্য স্টাডি অব পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্টের নির্বাহী পরিচালক অনিমেশ রাউল বলেছেন, মালদ্বীপে যেমন ইউসুফ আল-কারাদাওয়ির অনুসারী আছে, তেমনি মুসলিম ব্রাদারহুডেরও আছে। বিশেষ করে মালদ্বীপের বিরোধী দল আদালত পার্টি মুসলিম ব্রাদারহুড দ্বারা প্রভাবিত। এতে পরিবর্তন আসতে পারে; কিন্তু অন্যান্য চরমপন্থি গোষ্ঠীর উত্থানে মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এছাড়া কাতারের ব্যাপারে অধিকাংশ এশীয় দেশের মূল ভাবনার কারণ হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস, সন্ত্রাসবাদ নয়। কাতার বিশ্বের সবচেয়ে বড় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক। এ গ্যাসের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যায় জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, তাইওয়ান, চীন ও থাইল্যান্ডে। অন্যদিকে ভারত একাই কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬৫ শতাংশ আমদানি করে। এসব চুক্তি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে হয়ে থাকে, যার বাজারের বেশিরভাগটাই আঞ্চলিক। সম্প্রতি পূর্ব এশিয়া এ গ্যাসের সবচেয়ে বেশি দাম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যে এলএনজির বাণিজ্য হয়, তার এক-তৃতীয়াংশের উৎপত্তি কাতারে। ফলে এশীয় দেশগুলোর পক্ষে কাতারের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন, যেটা তেলের ক্ষেত্রে হয়নি। এসব চুক্তি মেনে চলার সামর্থ্য কাতারের থাকায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হয়তো এড়ানো যাবে। ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে, আর এ সংকটের কারণে কাতার-ইরাক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় এলে কাতারের এলএনজির দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতারা অন্য উৎসের সন্ধান করতে পারে।
স্বল্পমেয়াদি বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে এ দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতাদের অনেকে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বারস্থ হতে পারেন, যারা উভয়েই এলএনজি রপ্তানি করেন। কথা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানিকারক হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যে কাতারের ভূমিকা অস্বীকার করার জো নেই। হিলিয়াম বাজারেও কাতারের একই রকম প্রভাব আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পর তারাই পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম হিলিয়াম উৎপাদক। কাতারের এলএনজি রপ্তানি এখনও আছে; কিন্তু তাদের হিলিয়াম রপ্তানি একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। নিষেধাজ্ঞার জবাবে কাতার সৌদি আরবে হিলিয়াম রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
আগে যেটা হতো, তা হলো কাতারের রপ্তানীকৃত হিলিয়ামের বেশিরভাগ অংশ সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বন্দরে নিয়ে যাওয়া হতো। হিলিয়াম তো অনেক কিছুতেই ব্যবহৃত হয়Ñ বাচ্চাদের জন্মদিনের বেলুন থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পর্যন্ত। সবচেয়ে হালকা দাহ্য এ গ্যাসটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুপূর্ণ। এশীয় দেশগুলো হিলিয়াম দিয়ে ইলেকট্রনিকস পণ্য, সেমিকন্ডাক্টর, ফাইবার অপটিকস ও নানা শিল্পদ্রব্য বানিয়ে থাকে। এদিকে নিষেধাজ্ঞার আগে হিলিয়ামের বাজার বছরে ২ শতাংশ হারে বাড়ছিল। এখন আমদানিকারকরা অন্য উৎস খুঁজলেও কাতারের এ সিদ্ধান্তে বাজারে বড় প্রভাব পড়বে। এশীয় দেশগুলোর কাছে কাতার সংকটের আরেকটি মাত্রাও আছে, কারণ বহুদিন ধরে তাদের দেশের শ্রমিকরা কাতারে যাচ্ছেন। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকদের যাওয়ার জায়গা হচ্ছে কাতারসহ আশপাশের আরব দেশগুলো।
বস্তুত দক্ষিণ এশীয় নাগরিকরাই উপসাগরীয় দেশগুলোতে বেশি যায়। শ্রমবাজারেও এর প্রভাব অনুভূত হতে শুরু করেছে। ফিলিপাইন সাময়িক সময়ের জন্য শ্রমিকদের দোহায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, তার সঙ্গে যোগ দিয়েছে ভিয়েতনামও। কাতার চেষ্টা করছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের অতিথি শ্রমিকরা যেন নিষেধাজ্ঞার সময় দেশ ছেড়ে যেতে না পারে। নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হলে কাতারের নির্মাণশিল্পের অগ্রগতি শ্লথ হয়ে যাবে। ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনে তাকে এ অবকাঠামো নির্মাণ করতেই হবে। যাহোক, এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে না কাতারের সংকট থেকে উন্মুক্ত দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে। তেমন নজিরও কিন্তু আছে। আমরা জানি, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ২০১৪ সালে আট মাসের জন্য তাদের রাষ্ট্রদূতদের কাতার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিশ্বাস করে, নিষেধাজ্ঞা ও ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কাতার একসময় নতি স্বীকার করবেই। সংকট সমাধানের লক্ষ্যে কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডের কিছু নেতাকে ফেরত পাঠাতে রাজি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলো জুনের শেষ দিকে ১৩টি দাবি তুলেছিল, যার মধ্যে আছে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ থেকে শুরু করে দেশটির রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কোম্পানি আলজাজিরা বন্ধ করে দেওয়া। এ দাবির কারণ কাতারের কাছে বোধগম্য নয়। তবে এতে অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনার ভিত্তি পাওয়া যায়। অপরদিকে দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার বৃত্তে আছে আফগানিস্তান, সমুদ্রসীমা নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস মোকাবিলা।
বিশ্বব্যবস্থায় কথিত স্থিতিশীলতা আনার জন্য ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্কের উন্নয়ন অপরিহার্য। অধুনা সম্পাদিত ভারত-মার্কিন সামরিক চুক্তি এ দুটি দেশ, বিশেষ করে ভারতকে এশিয়া অঞ্চলে তার প্রভাব বলয় সম্প্রসারণের সুযোগ এনে দিয়েছে। এশীয় আর্থিক সংকট মোকাবিলার অভিজ্ঞতা থেকে বেশ কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় ধরা পড়ে : আর্থিক উদারীকরণের বিষয়টি খুব ভেবেচিন্তে, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা উচিত। দেশীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে যথেষ্ট শক্তিশালী না করে এবং তার তদারকি সক্ষমতা কার্যকরভাবে নিশ্চিত না করে হুট করে বিদেশি মুদ্রার হিসাব উন্মুক্ত করে দেওয়া সঠিক হবে না। যথোপযুক্ত প্রস্তুতি ছাড়া প্রচুর পরিমাণে বিদেশি মুদ্রায় ঋণের সুযোগ করে দিলে তা অনুৎপাদনশীল খাতে যাবেই এবং তখন সম্পদের অতিমূল্যায়ন হতে বাধ্য। ম্যাক্রো অর্থনীতির মৌল কাঠামোকে বরাবরই শক্তিশালী রাখতে হবে। হ

রায়হান আহমেদ তপাদার
লেখক ও কলামিস্ট