আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ছাত্ররাজনীতি ও আমাদের প্রত্যাশা

নূরে আলম সিদ্দিকী নূর
| সম্পাদকীয়

বইয়ে পড়েছি, রাজনীতি হচ্ছেÑ রাজার নীতি। এখন প্রশ্ন হতেই পারে, এ নীতি কি ভালো রাজার জন্য, নাকি খারাপ রাজার জন্য? আরেকজন জোর করে বলতেই পারেনÑ রাজা ভালো হোক বা খারাপ হোক, রাজার জন্য প্রণীত নীতি সবসময়ই ভালো হয় তাই জানি, আর তা সবসময়ই সবার জন্য মঙ্গলজনকও বটে।
ইতিহাস থেকে জেনেছি, আজ থেকে ৭০ বা ১০০ বছর আগে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা খুব মেধাবী ছিলেন মূলত তারাই নাকি ছাত্র রাজনীতি করতেন, ছাত্র আন্দোলন করতেন। তারা তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতেন, দেশের জন্য আন্দোলন করতেন। শুনেছি, মেধাবীদের আন্দোলন ফলপ্রসূ হতো, সে আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সমর্থনও থাকত। কিন্তু এখন? ছাত্র রাজনীতি কারা করেন? কোন ধরনের ছাত্ররা এখন ছাত্র রাজনীতি বেশি করেন, তা আমাদের চোখের সামনে ঝকঝকে পরিষ্কার। আপনি একবার ভাবুন তো, এখনকার ছাত্র রাজনীতিতে মেধাবীদের জায়গা হয় কি? মেধাবীরা ছাত্র রাজনীতি করতে অনীহা দেখায় কেন? দলের মিছিলে যারা সেøাগান দেয় তাদের মধ্যে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধা তালিকার প্রথম পাঁচজনের মধ্যে কতজন থাকে? খুঁজে পাচ্ছেন না তো! আমার মাথায় প্রায়ই একটি প্রশ্ন খেলা করে, আর তা হলোÑ ছাত্র রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে তো মূল দলগুলোই কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে যারা ক্ষমতার পালাবদলে দেশ শাসন করে এবং তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব ছাত্র রাজনৈতিক দল বা সংগঠনগুলোর ভূমিকাও অনেক বেশি। তাহলে আগামীতে দেশ পরিচালনা করার ক্ষেত্রে যারা ছাত্র রাজনীতিতে অংশ নেবেন তাদের মেধার ভিত্তিতে ছাত্র রাজনীতি করার শর্ত দেওয়া হয় না কেন?  আজ যারা ছাত্র রাজনীতিতে আছেন তারা তো একসময় দেশ পরিচালনা করবেন, তারা কম মেধাবী হলে জাতির মেরুদ- কতখানি সোজা হবে বা মেরুদ- কতক্ষণ সোজা থাকবে? এমন প্রশ্নের জবাবে কেউ হয়ত বলে বসতে পারেন, মেধাবীদের অধিকাংশ তো সুশিক্ষিত হয়, আদর্শবান হয়। তারা যদি রাজনীতিতে আসে তাহলে আবার রাস্তায় পিকেটিং করবে কে, বাসে পেট্রল বোমা মারবে কে, মিছিলে পিস্তল, চাপাতির মহড়া কে দেবে? ক্যাম্পাসে র‌্যাগিং করবে কে? মিছিলে যাওয়ার জন্য নিরীহ ছাত্রদের ওপর নির্যাতন করবে কে? সুষ্ঠু নির্বাচনের সময় ভোট কেন্দ্রে জাল ভোটে একাই শত শত সিল মারবে কে? শুধু তা-ই নয়, ক্ষমতা বা অস্ত্রের জোরে টেন্ডারবাজি করবে কে? এবার আরেকজন মুচকি হেসে হয়তো বলবেন, তাই তো; ঘটনা তো সত্যি! পাশে বসে একজন মাথা চুলকাতে চুলকাতে অবশেষে হয়তো বলেই ফেলবেন, তাহলে উপায়?
উপায় আমাদের সবারই কমবেশি জানা আছে। জানা থাকলেও মানছি কয়জনে? আইনের সেবক পুলিশ বন্ধুদের সঙ্গে ওঠবস করতে করতে আমাদের দেশের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত অনেক ছাত্রই এখন পুলিশের মতো পিস্তল ও লাঠি চালানো শিখে গেছে। শুধু তা-ই নয়, মিডিয়ার বদৌলতে তাদের আমরা অনেক রাজনৈতিক দাঙ্গায় সুনিপুণভাবে পিস্তল ও লাঠি চালাতে দেখেছি। তবে এ ঘটনাকে অনেকে সফলতা মনে করেন আবার অনেকে তা দেশের জন্য কলঙ্কও মনে করেন। কেউ হয়তো দাবি করতে পারেন, একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম; তাই হয়তো কেউ এ রকম মনে করতেই পারেন!
হ্যাঁ, যেটা বলছিলাম, উপায় কী? তার আগে একটি বিষয় বলে নিই, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার সিস্টেম নিয়ে নানাজনে নানা কথা বললেও একটি বিষয় আমার খুবই ভালো লেগেছে, তা হলো পুরো দেশের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণটি তিনি একটি চেইনের মাধ্যমে আনতে পেরেছেন। এ বিশ্বাস থেকেই বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রী যদি বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রদের আদর্শ রাজনীতি করার ও তাদের নিয়ে আগামীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন দেখেন তাহলে ছাত্র রাজনীতিতে অবশ্যই মেধাবী ও যোগ্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ ও শর্ত দিয়ে নতুন চিন্তা বাস্তবায়নের সুপথ তৈরি করতে হবে। তাহলেই আগামীতে মেধাবী ছাত্ররা রাজনীতি করতে উৎসাহিত হবে। তখন ছাত্র রাজনীতিতে সুচিন্তা বিরাজ করবে, ছাত্রদের মধ্যে দেশকে ভালোবাসার সুন্দর আবহ তৈরি হবে। মেধাবীদের দেখে অন্য ছাত্ররাও তাদের সুন্দর কাজগুলো অনুসরণ করবে। আর এতে এর সুফল এ দেশের মানুষ ভোগ করবে, রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে, শিক্ষাঙ্গণ সন্ত্রাসমুক্ত থাকবে। আর এটাই তো সাধারণ মানুষের চাওয়া। 

সংগঠক ও মানবাধিকার কর্মী
[email protected]