আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বিলুপ্তপ্রায় পাখি বাঁচান

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
| সম্পাদকীয়

পাখপাখালির ডাক কে না পছন্দ করে। রং-বেরঙের কত পাখি। দেখে মন-প্রাণ কার না জুড়ায়। প্রকৃতির অলংকার পাখি। অথচ পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ১০০ বছরে ১৯ প্রজাতির পাখি হারিয়ে গেছে। বহু প্রজাতির পাখি হুমকির মুখে। জলবায়ু পরিবর্তন, গাছপালা কেটে ফেলা, অবাধে সার ও কীটনাশক ব্যবহার ইত্যাদি পাখি বিলুপ্তির কারণ। প্রকৃতিতে সবচেয়ে বিপদে আছে ছোট আকারের পাখিগুলো। তারা প্রকৃতির বিরূপ আচরণ সহ্য করতে পারে না। নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার ক্ষমতা তাদের নেই। তাহলে কী হবে? এভাবে সব পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাবে? আমরা কিছুই করব না, আমাদের করণীয় কিছুই নেই? গাছ লাগানো হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হচ্ছে। গাছে গাছে হাঁড়ি বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। আইন হয়েছে, বনের পাখি হত্যা করা যাবে না। সবই পাখিদের জন্য। তারপরও পাখিদের আমরা বাঁচাতে পেরেছি কি? আমরা যা করছি সেটা পাখিদের স্বাভাবিক সুন্দর জীবনের জন্য। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা। যাতে বড় পাখিগুলোর জন্য উপকার হয়। দোয়েল, কোয়েল, টুনটুনি, বুলবুলি, ফিঙ্গে, প্রিনা, চড়–ই ইত্যাদি ছোট যত পাখি আছে, এদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। দাগি বাবুই এখন আর দেখা যায় না। হিল ময়না বিলুপ্তির পথে। লালচে প্রিনাও দেখা যায় না তেমন। ছোট পাখিদের বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হবে। প্রথমে দরকার বিলুপ্তির মুখে থাকা পাখিদের একটি তালিকা করা। দেশে অনেক বিশ্বমানের খাঁচার পাখি উৎপাদনকারী আছেন। তাদের কিছুসংখ্যক বিলুপ্তপ্রায় পাখি দেওয়া হোক। তারা নানা ধাপে কাজ করবেন। খাঁচায় ওইসব পাখি উৎপাদন করবেন। এজন্য সরকার তাদের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে। এভাবেই বিলুপ্তির হাত থেকে পাখি বাঁচানো সম্ভব। উন্নত বিশ্ব তাই করে। অস্ট্রেলিয়ার কথা ধরা যাক। সেখানে গোল্ডিয়ান ফিঞ্চ পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছিল। তখন বন থেকে গোল্ডিয়ান এনে ব্রিডারদের দেওয়া হয়। তারা অসংখ্য গোল্ডিয়ান উৎপাদন করে। তখন অস্ট্রেলিয়া এ পাখি রপ্তানি শুরু করে। অর্জন করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। চীনের কথাও বলা যায়। সেখানে পান্ডার সংখ্যা কমে আসছিল। সংখ্যা ১০০ এর নিচে ছিল। তখন চীন সরকার ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এ খাতে বরাদ্দ দেয়। অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তবে এটাই সত্য। চীনে পান্ডা নিয়ে ব্যাপক কাজ হয়। এখন আর এ প্রাণীটি ঝুঁকিতে নেই। হাজার হাজার পান্ডা উৎপাদিত হয়েছে। বিলুপ্তির হাত থেকে বেঁচে গেছে পান্ডা। বাংলাদেশে বনের পাখি নিয়ে কাজ হচ্ছে। পুরোটাই বিক্ষিপ্ত। কোনো সমন্বিত দূরদর্শী পরিকল্পনা নেই। ফলে অর্থের অপচয় হচ্ছে। ব্যক্তি লাভবান হচ্ছে, পরিবেশ-প্রকৃতি নয়। স্বাধীনতার পর এতদিনেও দেশে একটি পাখি রিচার্স কেন্দ্র হয়নি। এই দুঃখ কোথায় রাখি? খাঁচার পাখিতে নীরব বিল্পব হচ্ছে। সেখানেও সরকারের ভূমিকা নেই। পুরোটাই ব্যক্তি উদ্যোগ। পাখির ডিএনএ টেস্টের জন্য বিদেশে ছুটতে হয়, যা সত্যিই ব্যথিত করে। সামান্য একটি ল্যাব পর্যন্ত হয়নি। ডিএনএ টেস্ট খুব জটিল কিছু নয়। 
পাখি রিচার্স কেন্দ্র করা যায়। তারাও পারে বিলুপ্তপ্রায় পাখির প্রজনন ঘটানোর কাজ করতে। এটা মোটেও অসম্ভব কিছু নয়। কোনো কল্পনাও নয়। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিতে পারি। একদিনে কিছু হয় না। হয়নিও কখনও। তাই এখনই পাখি রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে। গাছ তো আমরা লাগাই, কই বনভূমির পরিমাণ বেড়েছে কি? গাছে হাঁড়ি বাঁধলে পাখি বাসা বানাতে পারবে বৈকী। ফসলের ক্ষেতে অবাধে বিষ দেওয়া হয়। পাখি তো সেই বিষ খেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। তার কী হবে? তাই তালিকা করে বিলুপ্তপ্রায় পাখি ব্রিড করানোর বিকল্প কিছুই নেই। পাশাপাশি পাখি রিসার্চ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। হ

পাখি পালক, পাখিবিষয়ক লেখক
মিরপুর-১২, ঢাকা