আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

শিক্ষার্থীদের কোচিং নির্ভরতা

শ্রেণিকক্ষে পাঠদান মানসম্মত করতে হবে

| সম্পাদকীয়

কোচিং বাণিজ্যের কাছে যেভাবে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা, তা খুবই উদ্বেগের বিষয়। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, স্কুল-কলেজে কোনোরকম হাজিরা দিয়েই শিক্ষার্থীদের ছুটতে হচ্ছে কোচিং সেন্টারে। বলা যায়, বর্তমানে স্কুল-কলেজের বদলে কোচিং সেন্টারগুলোই হয়ে উঠেছে মূল ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’! সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, শিক্ষকদের একটি বড় অংশ জড়িয়ে পড়েছে এ ব্যবসায়। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, চট্টগ্রাম নগরীতে ২ হাজারেরও বেশি কোচিং সেন্টার রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা লক্ষাধিক। শিক্ষকরা স্কুল-কলেজের ক্লাস বাদ দিয়ে বাড়তি আয়ের জন্য এসব সেন্টারে ক্লাস নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা বাসায় প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। এ শিক্ষা-বাণিজ্যে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন বিপুল অভিভাবক। কোচিং থেকে সন্তানদের বিরত রাখতে কোনো অবলম্বনও পাচ্ছেন না তারা। এসব বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না সরকারিভাবে। শিক্ষাক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি শুধু চট্টগ্রামেই নয়, সারা দেশেই বিরাজ করছে।
শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে পাঠদান করা গেলে, মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে একজন শিক্ষার্থীর কোচিংয়ে পড়ার দরকার হতো না। শিক্ষাকে কিছুসংখ্যক লোকের অনৈতিক বাণিজ্যের ধারা থেকে বের করে আনতে মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে শিক্ষকদের পূর্ণ প্রস্তুতি ও মনোযোগ দিতে হবে। উল্লেখ্য, এক সময় মনে করা হতো, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নামমাত্র; তাই তাদের বাড়তি আয়ের জন্য কোচিং ছাড়া কোনো উপায় নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বেড়েছে। এরপরও শিক্ষকদের কেন কোচিং বাণিজ্যে লিপ্ত হতে হবে? ক্লাসে পাঠদান বাদ দিয়ে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যে ঝুঁঁকে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। উল্লেখ্য, প্রায় ছয় বছর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোচিং বাণিজ্য বন্ধে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছিল। এ নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পাঁচ ধরনের শাস্তির কথা বলা হয়েছিল। তবে এ নীতিমালায় বাণিজ্যিক কোচিং বন্ধের কোনো উল্লেখ না থাকায়, সুযোগ বুঝে অবাধে চালানো হচ্ছে কোচিং বাণিজ্য।
বর্তমান বাস্তবতায় কোচিং ব্যবসা বন্ধের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। শিক্ষাসংক্রান্ত নীতিমালায় কোচিং বন্ধের বিষয়টি যোগ করে নীতিমালা কার্যকর করতে কঠোর পদক্ষেপও নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দানের পাশাপাশি দক্ষ, মেধাবী ও সঠিক যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের শিক্ষকতার পেশায় আকৃষ্ট করতে শিক্ষকদের বেতনকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রয়োজনে আবারও পর্যালোচনা করা যেতে পারে।