আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২২-০২-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য

সীমার বাইরে ৩১ ব্যাংকের স্প্রেড

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ঋণ ও আমানতের সুদ ব্যবধান (স্প্রেড) মানেনি অন্তত ৩১টি ব্যাংক। এ তালিকায় সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি সব খাতের ব্যাংকই রয়েছে। এ মাসে সর্বোচ্চ স্প্রেড রয়েছে বিদেশি খাতের স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। এরপরই রয়েছে বেসরকারি ডাচ্ বাংলা ও ব্র্যাক ব্যাংক। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ও ভোক্তা ঋণ ছাড়া অন্য সব ঋণ এবং আমানতের স্প্রেড চার শতাংশের বেশি হতে পারবে না। বিভিন্ন ধরনের ঋণের সুদহার ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গত বছরের ৩০ মে আমানত-ঋণের সুদহার চার শতাংশে নামিয়ে আনার এ নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক; কিন্তু কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যাচ্ছে না এ স্প্রেড। ব্যাংকারা বলছেন, বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করে কম সুদে ঋণ বিতরণ করা কোনো ব্যাংকের পক্ষেই সম্ভব নয়। এছাড়াও কস্ট অব ফান্ড, সিআরআর ও এসএলআর, পরিচালনা এবং প্রশাসনিক খরচ ও খেলাপি ঋণের সঙ্গে স্প্রেডের বিষয়টি সম্পৃক্ত। এসব কারণে অনেক ব্যাংক এ পার্থক্য কমিয়ে আনতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ৩১ ব্যাংকের স্প্রেড এ সীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের ২৬টি ও বিদেশি খাতের সাতটি ব্যাংক রয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো হলো এবি ব্যাংক লিমিটেড, দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড, আইএফআইসি ব্যাং, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া,  ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, সাউথ এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। এ সময়ে ৯টি বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে সাতটি ব্যাংকের স্প্রেড হার বেশি ছিল। এগুলো হলো স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন এবং ব্যাংক আল-ফালাহ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ঋণের বিপরীতে সুদ নিয়েছে গড়ে ১০.২৭ শতাংশ এবং আমানতের বিপরীতে দিয়েছে ৫.৮৯ শতাংশ সুদ। ফলে তাদের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪.৩৮ শতাংশ। এ মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণের বিপরীতে সুদ নিয়েছে ৬.৭৮ শতাংশ এবং আমানতের বিপরীতে সুদ দিয়েছে গড়ে ৪.৪৬ শতাংশ। এতে তাদের গড় স্প্রেডের হার দাঁড়িয়েছে ২.৩২ শতাংশ। এ মাসে বিদেশি ব্যাংকগুলো ঋণের ক্ষেত্রে সুদ নিয়েছে ৮.৮৭ শতাংশ। আর আমানতে সুদ দিয়েছে ২.৩ শতাংশ। ফলে তাদের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৬.৫৭ শতাংশ। এছাড়া এসময়ে বিশেষায়িত ব্যাংকের আমানত-ঋণের সুদ হারের ব্যবধান ছিল ১.৬৫ শতাংশ।