আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৮-১১-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোয় তোলপাড় বরিশাল কারাগারে কাতরাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থী

বরিশাল ব্যুরো
| শেষ পাতা

বরিশালে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনার শিকার সদ্য জেএসসি পরীক্ষা দেওয়া শিশু শিক্ষার্থী মইন খন্দকার পায়ের ব্যথায় কারাগারে কাতরাচ্ছে। তার দুই পা ফুলে গেছে। ভর করে হাঁটতে পারে না। শুক্রবার সন্ধ্যায় আটকের পর তাকে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বিমানবন্দর থানার এসআই এনামুল হকের বিরুদ্ধে। মইনকে ফাঁসানো হয়েছে কিনা তা এখনও তদন্ত করছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। তবে এরই মধ্যে ১৪ বছরের এ কিশোরকে অনেক দাগী অপরাধীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় কারাগারে বসবাসের দুই দিনের অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। মইনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর খবর দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ রোববার প্রকাশিত হওয়ায় তোলপাড় ঘটে বরিশালে।

রোববার কারাগারে মইনের সঙ্গে দেখা করার পর মা শাহিনুর বেগম ও 

বাবা সাইদুল হক হিরন কান্নজাড়িত কণ্ঠে ছেলেকে অমানুষিক পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ করেন। ছেলের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলেন, তার হাত বেঁধে কোমরের নিচের অংশে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে।
একই অভিযোগ করেন মইনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে দায়ের হওয়া মামলার দুই নম্বর সাক্ষী আশ্রাফুল আলম মিলন সিকদার। তিনি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় আটকের পর তিনি মইনকে দেখতে বিমানবন্দর থানায় গিয়েছিলেন। তখন মইন তাকে পা দুটো ধরে দেখার আকুতি জানায়। মিলন সিকদার বলেন, ‘ওর ফুলা পায়ের ওপর হাত দিয়ে আমার চোখে পানি এসে যায়’। তিনি বলেন, মইনের কাছ থেকে নাকি ইয়াবা পাওয়া গেছে। অথচ তিনি এমনটি দেখেননি।
নিরীহ কিশোরকে কথিত ইয়াবা উদ্ধারের নামে আটক ও থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ইছাকাঠি এলাকাবাসী এসআই এনামুল হকের শাস্তি দাবি করেছেন।
পশ্চিম ইছাকাঠিতে রোববার সরেজমিন গেলে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিলন সিকদার, হাফেজ বেপারি, কোহিনূর বেগম, দুলাল সিকদারসহ কমপক্ষে অর্ধশত নারী-পুরুষ বলেন, ‘মসজিদের পাশে রাখা গাছের ওপর মইন মোবাইল নিয়ে কী যেন করছিল। মাগরিবের নামাজের পর দুইজন সাদা পোশাকধারী এসে মইনকে জাপটে ধরে মারধর করতে থাকে। তারা এগিয়ে গেলে ওই দুইজন পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলে, তার (মইন) কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উপস্থিত লোকজন ইয়াবা দেখতে চাইলে তারা দেখাতে পারেনি’।
মইনের মা শাহিনুর বেগম বলেন, ছেলের চিৎকার শুনে তিনি ঘর থেকে ছুটে আসার পর পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদের একপর্যায়ে এসআই এনামুল বলেন, ‘তোরে লাথি মাইরা দশ হাত দুরে ফালামু’। তার সামনেই মইনকে একাধিকবার চড়থাপ্পড় দিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তা।
দিয়াপাড়া ইউনাইটেড মাধমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা চৌধুরী ডলি বলেন, মইন তার স্কুল থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। নিরীহ এ ছেলেটিকে আটক করে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করা হবে। 
এদিকে ২৯ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ আহম্মেদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার জসিম উদ্দিন শনিবার বিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) মোকতার হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মইনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর বিষয়ে নালিশ দিয়েছেন। উপকমিশনার মোকতার হোসেন শনিবার রাতে বলেন, একজন সহকারী কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মইনের বাবা সাইদুল হক হিরণ বলেন, শনিবার রাতে পুলিশ কার্যালয়ে ডেকে তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে বিমানবন্দর থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য শোনেন। ওসি এসএম জাহিদ উদ্দিন আলম বলেন, মইনকে ফাঁসানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।