আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৮-১১-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন

সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরামের যাত্রা শুরু

| শেষ পাতা

সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের আওতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম। রোববার রাজধানীর ধানমন্ডির ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন মিলনায়তনে ফোরামের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য সাবের হোসে

সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সার্বজনীন স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের আওতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম’। ধানমন্ডির ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন মিলনায়তনে রোববার ফোরামের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিদেশি আর্থিক নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। দেশের মানুষের সেবাকে এগিয়ে নিতে ও টেকসই করতে এ ফোরাম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, এ ফোরামের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যসেবায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ 

দেওয়া এবং টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশে প্রতিবছর সাড়ে ৫২ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়ছে। 
অন্যদিকে পারিবারিক ব্যয়ের ১০ শতাংশের বেশি স্বাস্থ্য ব্যয়ই হচ্ছে আকস্মিক স্বাস্থ্যব্যয়। যে কারণে বাংলাদেশের ১৪ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ প্রতিবছর যথোপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে তিন থেকে পাঁচ গুণ। তারপরও গেল বছর দেশে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে চার লাখ। এখনও দেশের অর্ধেক গর্ভবতী নারী রক্তশূন্যতায় ভোগেন।  তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে শহর-গ্রাম যেখানেই হোক, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। 
তাই পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দরকার দেশের সর্বস্তরের মানুষের সহায়তা। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সমর্থ্যবান ব্যক্তি দেশের স্বাস্থ্যসেবামূলক কাজকে আরও সম্প্রসারিত ও টেকসই করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের সেকেন্ড সেঞ্চুরি অ্যাম্বাসেডর লায়ন অধ্যাপক ডা. এম ফখরুল ইসলাম। এছাড়া প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক জেলা গভর্নর, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল (জেলা ৩১৫ এ২) লায়ন শেখ আনিসুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি কাজী রফিকুল আলম। 
উল্লেখ্য, রোববার ৮১ জন জীবন ও নিয়মিত সদস্য নিয়ে আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম যাত্রা শুরু করে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বা এককালীন আর্থিক অনুদান দিয়ে এ ফোরামের নিয়মিত সদস্য, জীবন সদস্য অথবা পেট্রোন হতে পারবে। এ ফোরামের কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য এগার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি থাকবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি