আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৮-১১-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

কোমর ভেঙেছে খুলনার ৪০ হাজার কৃষকের

কাজী মোতাহার রহমান, খুলনা
| প্রথম পাতা

- পাকা ধানক্ষেতে মই দিয়েছে ঘূর্ণিঝড় 

- ক্ষতির পরিমাণ ৪৮ কোটি টাকা

প্রান্তিক, বর্গা ও মহাজন চাষিদের বাড়িতে তোড়জোড় চলছিল পাকা আমন ধান কাটার। তারা অপেক্ষায় ছিলেন সোনালি ধান গোলায় তোলার। কিন্তু টানা বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাসে পাকা ধানক্ষেতে মই দিয়েছে প্রকৃতি। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তা-বে পানিতে শুয়ে পড়েছে গোছা গোছা ধানের শীষ। ২৫ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেতে পাওয়া যাবে চিটা আর কুটো। জেলায় এমন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ৪০ হাজার। ক্ষতি হয়েছে ৪৮ কোটি টাকার কৃষি পণ্যের। 

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল যখন গেল ৯ নভেম্বর ভোরে খুলনা-সাতক্ষীরা সুন্দরবন অংশে প্রবেশ করে, তখন তা ছিল অনেকটাই দুর্বল। উপকূলে আঘাত হানার সময় ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ থাকার কথা ছিল ১২০ থেকে ১৪০ কিলোমিটারের মধ্যে। তবে ভারতের সুন্দরবন অংশে শক্তি ক্ষয় হওয়ায় বাংলাদেশ অংশে বাতাসের গতিবেগ নামে ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটারে। ঘূর্ণিঝড় দুর্বল হলেও উপকূল অতিক্রম করতে সময় নিয়েছে ৪ ঘণ্টা।

খুলনার ফসলি জমিতে এখন বুলবুলের ধ্বংসযজ্ঞের দগদগে ক্ষত। মাটিতে মিশে গেছে আমন ধান, শাকসবজি, সরিষা, পানের বরজ, পেঁপে ও কলাগাছ। 
কৃষি সম্প্রসারণ জেলা অফিস সূত্র জানানো হয়, ২৫ হাজার হেক্টর আমন ধান ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ২৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ৮৬৪ হেক্টর জমির শাকসবজি নষ্ট হয়েছে। কৃষকের ক্ষতি ১২ কোটি ৩ লাখ টাকার। ৪০ হেক্টর জমির সরিষা ক্ষেত নষ্ট হয়েছে, এখানে ক্ষতি ৩০ লাখ টাকা। ৩৬ হেক্টর জমির পানের বরজ লন্ডভন্ড হয়েছে, সেখানে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকার। ১৫২ হেক্টর জমির কলা ও পেঁপে গাছ মাটির সঙ্গে মিশেছে, কৃষকের ক্ষতি ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের মহসেনে দাকোপে নষ্ট হয় ১৫০ হেক্টর জমির তরমুজ। 
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মোছাদ্দেক হোসেন জানান, উপজেলার বরাতিয়া, শলুয়া, শরাফপুর ও রংপুর গ্রামে পেঁপে ও কলাবাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শরাফপুর ও বরাতিয়া গ্রামে আমন ধান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এ উপজেলায় ২ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 
জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কৃষি পণ্যের ক্ষতির বিবরণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।