আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৮-১১-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির চিঠি ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় হওয়া চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত প্রকাশের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। রোববার দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠি দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও খায়রুল কবির খোকন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক 

বিপ্লব বড়–য়া চিঠিটি গ্রহণ করে বিএনপি নেতাদের বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আমি আপনাদের চিঠি গ্রহণ করলাম। প্রধানমন্ত্রী এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরকারি সফরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পরে আপনাদের চিঠিটি পৌঁছে দেব।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ ওয়াহিদা আক্তার, প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার এবং সহকারী প্রেস সচিব এমএম ইমরুল কায়েস উপস্থিত ছিলেন।
পরে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর মহাসচিবের স্বাক্ষর করা চিঠিটি আমরা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়ার কাছে দিয়ে এসেছি। চিঠিটি তারা গ্রহণ করেছেন। আলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে যেসব চুক্তি হয়েছে সেখানে দেশের স্বার্থ ক্ষতি করে, এমন কিছু আছে কিনা, বিষয়টি পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার জন্য এ চিঠি দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমে চুক্তি নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। সংসদে এ বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংসদে বিএনপির প্রতিনিধি থাকার পরও এভাবে চিঠি দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সংসদে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে আগে নোটিশ দিতে হয়। বিএনপির প্রতিনিধিরা কয়েকবার নোটিশ দিলেও তা গ্রহণ এবং কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাই বিএনপি প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছে।
গেত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরের সময় ভারতের সঙ্গে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা সই এবং তিনটি যৌথ প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহার এবং এলপিজি রপ্তানির সুযোগ দেওয়া নিয়ে দেশে সমালোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া বিএনপির এক পৃষ্ঠার চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদশের সংবিধানের আর্টিকেল ১৪৫ (ক)-তে উল্লেখ আছে যে, বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সব চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোনো চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।
কিন্তু ভারতের সঙ্গে যেসব চুক্তি স্বাক্ষর করা হলো তার কোনোটি জনসমক্ষে কিংবা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। এর ফলে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণই এসব চুক্তির খুঁটিনাটি এবং বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। অথচ এসব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির বিষয়ে অভিহিত থাকা জনগণের মৌলিক অধিকার, যে অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত রাখা স্পষ্টতই সংবিধানের লঙ্ঘন।
এমতাবস্থায় সংবিধানের আর্টিকেল ১৪৫ (ক) অনুযায়ী ভারতের সঙ্গে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সব চুক্তির পূর্ণ বিবরণী অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদ ও জনসম্মুখে প্রকাশ করে জনমনে সৃষ্ট নানাবিধ প্রশ্ন ও সন্দেহ দূর করার আহ্বান জানাচ্ছি।