আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৮-১১-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

পেঁয়াজের বাজার নিম্নমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

বাজারে পেঁয়াজের কেজি যখন ২৫০ টাকার কাছাকাছি, তখন ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। ঢাকার মতিঝিলে রোববার টিসিবির ট্রাক ঘিরে তৈরি হয় পেঁয়াজ ক্রেতাদের জটলা - আলোকিত বাংলাদেশ

- কেজিতে কমেছে ১০ থেকে ২০ টাকা

- জেলা পর্যায়ে আগাম উত্তোলন শুরু

- মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের চিন্তা

পেঁয়াজের দাম বাগে আনতে সরকার কার্গো বিমানে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে এসব পেঁয়াজ আসবে বাজারে। আবার দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন আগাম পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। এ দুই খবরে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে। বাজারভেদে কেজিতে দাম কমেছে ১০ থেকে ২০ টাকা। এদিকে কৃষককে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য দিতে সরকার মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের চিন্তা করছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। রোববার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়; যা গেল দুই দিনে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়; যা গেল দুই দিন ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এ হিসাবে দাম কমেছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা।

এদিকে পাইকারি বাজারেও নিম্নমুখী রয়েছে পেঁয়াজের দাম। কারওয়ানবাজারে পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি ২১০ টাকা; মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং মিসরের পেঁয়াজ ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। জানা গেছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে চরম অস্থিরতা চলছে পেঁয়াজের বাজারে। গেল কয়েকদিনে প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছিল পেঁয়াজের দাম। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৮০ টাকাও ছাড়িয়েছিল। তবে সরকার ও বড় ব্যবসায়ীদের মোটাদাগে বিমানে করে পেঁয়াজ আদমানির খবরে সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা কাটিয়ে বাজার নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। তবে, এখনও নিত্যপণ্যটির দাম স্বাভাবিক মৌসুমের প্রায় ১০ গুণ বেশি। সাধারণত এ পণ্যটির দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই থাকে বছরের বেশিরভাগ সময়। 
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, মিসর থেকে কার্গো বিমানযোগে আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান ঢাকায় পৌঁছবে মঙ্গলবার। এস আলম গ্রুপ মিসর থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করছে; এটি তার প্রথম চালান। পর্যায়ক্রমে অন্য আমদানিকারকের আমদানি করা পেঁয়াজ কার্গো বিমানযোগে দেশে আসবে। টিসিবিও পেঁয়াজ আমদানি করে খোলাবাজারে বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
এছাড়া গত দেড় মাসে চীন, মিসরসহ বিকল্প বাজার থেকে ৬৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পেঁয়াজ আমদানির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি ও আগাম পেঁয়াজের কারণে মোকাম ও পাইকারি বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতিতে ছেদ পড়েছে। শ্যামবাজারে অভিযানের কারণে সেখানে দাম কিছুটা কমেছে। একই কারণে পাইকারি বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। আবার দেশের কয়েকটি এলাকায় পাইকারি বাজারেও দাম কমছে। বিভিন্ন এলকায় নতুন পেঁয়াজও উঠা শুরু হয়েছে; যার প্রভাব ঢাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে খুব দ্রুত আরও বেশি প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করেন তারা।
ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় সেপ্টেম্বর থেকেই দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির। এরপর থেকে দফায় দফায় বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। বেশ কয়েক দিন ধরেই পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকার কাছাকাছিই ছিল; পরে চলতি মাসের শুরুতেই পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকার নিচে নামা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এরপরই দাম ১৫০ টাকা ছাড়ায়। এ অবস্থায় শিল্পমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেন, পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক আছে। পরের দুই দিনে দাম আড়াইশ টাকা ছাড়ায়।
কৃষকের ন্যায্য দাম পাওয়া নিশ্চিত করতে সরকার ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ রাখার চিন্তা করছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি জানান, মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার চিন্তা-ভাবনা চলছে। তবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি; কিন্তু চাষিরা যাতে সঠিক মূল্য পায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। 
পাবনা প্রতিনিধি জানান, পেঁয়াজের ভা-ার বলে খ্যাত জেলার সাঁথিয়া উপজেলার কৃষক আগাম জাতের পেঁয়াজ ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। তবে এ পেঁয়াজ এখনও পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। ভালো দামের আশায় কৃষক সময়ের আগেই তা বাজারে আনতে শুরু করেছেন। আগাম জাতের এ পেঁয়াজ শনিবার সাঁথিয়ার করমজা হাটে প্রতি কেজি পাইকারিতে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। নতুন পেঁয়াজ ওঠার পর পুরোনো দেশি পেঁয়াজ প্রতি মণে আগের দিনের তুলনায় প্রায় এক হাজার টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা যায়। প্রতি কেজি ২০০ টাকার নিচে বিক্রি হয়েছে।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশালের পেঁয়াজের বাজার এখনও অস্থির। তবে একদিনের ব্যবধানে বাজার দর কেজি প্রতি কমেছে মাত্র ১০ টাকা। রোববার নগরীর পেঁয়াজপট্টিতে পাইকারিতে দেশি ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আর তুরস্কের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। তবে খুচরা বাজারে দাম কমার প্রভাব কম পড়েছে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা হাকিমপুরের হিলি স্থলবন্দরের বাজারে পেঁয়াজের খুচরা দর একলাফে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কমেছে। শনিবার পর্যন্ত ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও রোববার হঠাৎ করে তা কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে কেনাবেচা হচ্ছে। 
রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর বাঘার বাউসা গ্রামের এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পনের মণ পেঁয়াজ জব্দ করে পুলিশ। ওই ব্যবসায়ী তার বাড়িতে গোপনে পেঁয়াজ মজুত রেখেছিলেন। তবে মজুতকৃত সব পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার শর্তে ছাড় পান তিনি।