আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৮-১১-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

রাজশাহীতে রাস্তা প্রশস্ত করেও সুফল মিলছে না

সরানো হচ্ছে না বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার

রিমন রহমান, রাজশাহী
| নগর মহানগর

মহানগরীর কোর্ট স্টেশন থেকে হড়গ্রাম বাজার হয়ে কোর্টবাজার পর্যন্ত রাস্তাটিতে সারাক্ষণই লেগে থাকে যানবাহনের চাপ। তাই প্রায় আট মাস আগে রাস্তাটি সম্প্রসারণ করা হয়। মাঝে ডিভাইডার দিয়ে রাস্তাটির লেনও আলাদা করা হয়। কিন্তু বিদ্যুতের একটি ট্রান্সফরমার না সরানোয় এর সুফল মিলছে না।
বিদ্যুতের এ ট্রান্সফরমারটি কোর্ট স্টেশনসংলগ্ন রেল ক্রসিংয়ের পাশেই। ট্রান্সফরমারের সঙ্গে বিদ্যুতের ক্যাবল সরিয়ে না নেওয়ার কারণে রাস্তার পশ্চিম পাশে রেল ক্রসিংয়ের ব্যারিয়ার হাউজ বসাতে পারছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কারণ, এখন ব্যারিয়ার হাউজ বসিয়ে ব্যারিয়ার পাইপ ওপরে তুললেই তা বিদ্যুতের তারে গিয়ে ঠেকবে। এতে ঘটবে দুর্ঘটনা। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে রাস্তার এক পাশে সব সময়ের জন্য ব্যারিয়ার পাইপ ফেলে রাখা হয়েছে। এতে বন্ধ রয়েছে রাস্তার এক লেনের চলাচল।
স্থানীয়রা বলেন, দুটি বিদ্যুতের খুঁটির ওপর থাকা ট্রান্সফরমারটি বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে একটু পেছনে স্থাপনের জন্য তারা বারবার বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছেন, কিন্তু সরানো হয়নি। আর বিদ্যুৎ বিভাগ এবং রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, বিষয়টি তারা জানেনই না। তবে এখন তারা খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।
রোববার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেল, রাস্তার পূর্ব দিকের লেন খোলা। কিন্তু রেল ক্রসিংয়ে পশ্চিম দিকের লেন বন্ধ করে রাখা হয়েছে পাইপ ফেলে। বন্ধ লেন দিয়ে কোর্ট স্টেশনের দিকে আসা গাড়িগুলোকে রাস্তার ওপর পাইপ পড়ে থাকতে দেখে হঠাৎ থামতে হচ্ছে। তারপর উল্টো লেন হয়ে রেলক্রসিং পার হতে হচ্ছে। এতে রেললাইনের ওপর যানবাহনের জটলা বেঁধেই থাকছে।
রেললাইনের পাশেই পাওয়া গেল রেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান মো. ভোলাকে। তিনি জানালেন, আগে রাস্তাটির প্রস্থ ছিল ৫০ ফুট। তখন রেল ক্রসিংয়ের দুটি ব্যারিয়ারের দৈর্ঘ্য ছিল ৭০ ফুট। ট্রেন পারাপারের সময় ব্যারিয়ার পাইপ ফেললে পুরো রাস্তাটিই বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু প্রায় আট মাস আগে রাস্তাটি প্রশস্ত করা হয়েছে। এখন এর প্রস্থ ১০৭ ফুট। এ রাস্তার জন্য এখন রাস্তার পশ্চিমাংশে নতুন ব্যারিয়ার হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু পাইপ বসানো যাচ্ছে না। পাইপ বসালেও তা ওপর বিদ্যুতের ক্যাবল গিয়ে ঠেকবে।
এদিকে আগের দুটি ব্যারিয়ার পাইপ দিয়ে পুরো রাস্তা বন্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ, একটি ব্যারিয়ার হাউজ পড়েছে রাস্তার মধ্যে। তাই ট্রেন আসার সময় ব্যারিয়ার পাইপ ফেলা হলেও এক লেন সব সময় খোলাই থাকত। এতে ট্রেন এলেও রিকশা-অটোরিকশা ঢুকে যাচ্ছিল। তাই পশ্চিমের লেনে পাইপ ফেলে প্রায় সাত থেকে আট মাস ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু এ পাইপ অতিক্রম করেও পথচারী ট্রেন আসার সময় সড়ক পার হতে যান। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভোলা দেখালেন, এখন যেখানে দুটি খুঁটির ওপর বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার আছে তার পেছনেই রেলের জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট। দুটি দোকান উচ্ছেদ করলেই ফাঁকা স্থানে ট্রান্সফরমার বসানো যাবে। তখন বিদ্যুতের ক্যাবলও সরে যাবে। এ কাজটিই হচ্ছে না সাত থেকে আট মাস ধরে। ভোলা আরও দেখালেন, সম্প্রসারিত রাস্তার জন্য ব্যারিয়ার হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু পাইপ বসানো যায়নি। দুটি পাইপ ফেলে রাখা হয়েছে রেললাইনের ধারে। সেগুলোয় মরিচা ধরেছে। ভোলা বলেন, এখন রেলক্রসিংয়ে রাস্তার অর্ধেক অংশে যে ব্যারিয়ার পাইপ আছে, তা দিয়ে পুরো রাস্তা বন্ধ করা যায় না। ফলে পাইপ ফেললেও অটোরিকশা-রিকশা পার হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আজও ট্রেন আসার সময় একটি অটোরিকশা ঢুকে রেললাইনের ওপর থেমে গিয়েছিল। পরে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে রেললাইন পার করলাম। তা না হলে সকালেই একটি দুর্ঘটনা এখানে ঘটে যেত।
রেল ক্রসিংয়ের পূর্ব পাশেই কোর্ট স্টেশন। গেটম্যান ভোলার সঙ্গে কথা বলার সময়ই রাজশাহীমুখী একটি কমিউটার ট্রেন এসে থামল স্টেশনে। কিন্তু ট্রেনের পেছনের বগিটার অর্ধেক অংশ রাস্তার ওপরেই থেকে গেলো। ফলে চলাচলের পথ আরও সংকীর্ণ হলো। বাড়ল যানজট। ট্রেন স্টেশন ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্তই এ অবস্থা থাকল। ভোলা বলেন, এমন অবস্থা প্রায়ই ঘটে। ট্রান্সফরমারটি সরিয়ে ব্যারিয়ার বসানোর পশ্চিমের লেনটি খুলে দেওয়া গেলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে না।