logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, শুক্রবার, জানুয়ারী ১২, ২০১৮
বাড়ির ছাদেই স্বপ্নপূরণ
সোনা চৌধুরী, রাজশাহী

‘ডাকে পাখি খোল আঁখি, দেখ সোনালি আকাশ- বহে ভোরেরও বাতাস।’ গানের কথার মতো এমন সুন্দর সকাল নগর জীবনে কল্পনামাত্র। তবে রাজশাহী মহানগরীর ঘোড়ামারার মনোয়ারুল ইসলাম বকুল সৃষ্টি করেছেন এমন নান্দনিক দৃশ্যপট। বাড়ির ছাদে তিনি বাগান করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। 

চারতলা বাড়ির ছাদে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল বাগান। সেখানে গাছে গাছে পাখি বসে, সকাল বিকাল গান গায়। ভোরে বয়ে যায় মৃদু হাওয়া। ভোরের আলো ফুটলে তিনি বাগানে চলে যান। পাখির কলকাকলি শোনেন, বিকেলে কবুতরের পায়চারি দেখেন, ফলের গন্ধ নেন। ভোরের মৃদু হাওয়ায় তিনি গাছের পরিচর্যা করেন। এভাবে শুরু হয় তার প্রতিটি সকাল। বিকালে মন খারাপ থাকলে তিনি বাগানে গিয়ে বসেন। সেখানে বসলেই তার মন ভালো হয়ে যায়।

মনোয়ারুল ইসলাম বকুল রাজশাহী থিয়েটারের সাবেক সভাপতি। এখন এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গম্ভিরায় নানা চরিত্রে অভিনয় করেন। তার দলের নাম ‘মাথল রাজশাহী’। তাকে সবাই ‘বকুল নানা’ নামেই চেনেন। রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার সামনের চারতলা বাড়িটিই তার।

ছাদে গাছের কারণে বাড়িটি সবাই চেনে। বাগানে রয়েছে হরেক রকম ফলের গাছ। তিনি অধিকাংশ ফল প্রতিবেশীর মাঝেই বিতরণ করেন। ২০০৬ সালের দিকে তিনি এ বাগানের কাজ শুরু করেন। সংস্কৃতিকর্মী বকুল বেশিরভাগ সময় গম্ভিরা দল নিয়ে দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়ান। তবে অবসর পেলেই বাগানের পরিচর্যা করেন।

বকুলের শখের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে টবে পাঁচমিশালি মশলা, চাইনিজ কমলা, সফেদা, আমলকী, জামরুল, পেয়ারা, আতা, লেবু, চাইনিজ ধনে, তুলসি, পুদিনা, টমেটো, পালং, বনসাই আর গাঁদা ফুলের সমারোহ। ছাদের একাংশে রয়েছে কবুতর থাকার ঘর। সেখানে আছে ৫০টি কবুতর। কোনো রাসায়নিক সার নয়, বাগানে কবুতরের বিষ্ঠার জৈব সারই ব্যবহার করা হয়।

বকুল বলেন, এক সময় তার বাগান করার ভীষণ ইচ্ছে ছিল। কিন্তু জমির অভাবে করতে পারছিলেন না। শেষে বাড়ির ছাদে বাগানের পরিকল্পনা করেন। এখন এই ছাদেই তার বাগানের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তিনি জানান, শুধু আনন্দের জন্য তিনি এ বাগান করেছেন। বিকেলে কবুতরগুলো যখন গাছের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে বেড়ায়, তখন মন খারাপ থাকলেও ভালো হয়ে যায়। ছোট ছোট এসব গাছে বাবুই, দোয়েল, টুনটুনিরাও এসে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে, বাচ্চা ফোটায়। তারপর উড়ে চলে যায়। এসব দেখতে খুব ভালো লাগে তার।
বকুলের বাগানে এবার প্রচুর টমেটো ধরেছে। সেসব দেখিয়ে বকুল বলেন, বিষমুক্ত এতো টমেটো তিনি একা খেতে পারেন না। প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনকেও বাসায় দিয়ে আসেন নিজ হাতে। এতেই তার তৃপ্তি। বাগানে এখন কয়েকটি চাইনিজ কমলা গাছে ফুল এসেছে। কিছুদিনের মধ্যেই থোকায় থোকায় ঝুলবে হলদে কমলা।
বকুল জানান, বিভিন্ন নার্সারিতে ঘুরে তিনি এসব গাছ সংগ্রহ করেছেন। তার দেখাদেখি এলাকার অন্যরাও বাড়ির ছাদে বাগান করছেন। এ কমলা স্বাদে একটু টক। কিন্তু ছাদে এতো সুন্দর কমলা ধরেÑএটিই তার কাছে বড় কথা। স্বাদ নিয়ে কিছু আসে যায় না। তবে ছাদের অন্য ফলগুলো খুব সুস্বাদু। রমজান মাসে কেজির কেজি পেয়ারা নামে গাছ থেকে। তা দিয়ে তিনি নিজে ইফতার করেন, প্রতিবেশীদেরও দেন। মানসিক প্রশান্তি পান।
বকুল বলেন, বাজার থেকে ফল কেনার পর মনের ভেতর সন্দেহ থেকেই যায়Ñ এটি রাসায়নিকমুক্ত কী না! কিন্তু বাগান থেকে ঠিকই রাসায়নিকমুক্ত ফল খাই। নিজের হাতে ফল ফলানোর মজাই আলাদা! নিজের কোনো জমি নেই। তাই বলে কী বাগান হবে না? মাথার ওপরে ঠিকই বাগান করেছি।

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]