logo
প্রকাশ: ১২:০০:০০ AM, বৃহস্পতিবার, জুন ৫, ২০১৪
আজমের শেষ কথা
আজ পপগুরু আজম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন বন্ধু পপগায়ক- ফেরদৌস ওয়াহিদ

ঢাকার সব চিকিৎসা শেষ। সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগ মুহূর্তে আজমের শেষ কথাটি যেন আজও আমার কানে বেজে ওঠে। কথাগুলো যখন বলছিল তখন মনেই হয়নি দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত বন্ধু আজম খান। জিজ্ঞেস করলাম এখন কেমন আছিস। আমার কথার রেশ শেষ না হতেই শুনতে পেলাম ৪০টি বছর ধরে তার অতি পরিচিত সাবলীল হাসিটি। এবার শুনতে পেলাম 'আছি কোনো রকম, আমি তো ভালোই আছি। সবাই আমারে ধইরা সিঙ্গাপুর পাঠাইতাছে। মানুষ আমারে এত ভালোবাসে এইডা আমি বুঝবারই পারি নাই।' ছোট করে বললাম, তুই ভালো হয়ে যাবি। আবারও সেই হাসি, বলল_ 'বাদ দে ওসব কথা, পৃথিবীতে আইছি যাইতে তো হইবোই। শোন তোরে একটা কথা কই, গান-বাজনার অবস্থা কিন্তু খুব বেশি সুবিধার না। তুই কিন্তু রাগ কইরা গান-বাজনা ছাইড়া দিস না। আমি তো আর পারুম না, তুই চালাই জাস। নাইলে পোলাপাইনে শিখব কি?' কথাগুলো শুনছিলাম আর ৪০ বছরের এলোমেলো স্মৃতিগুলো শুধুই ঘুরপাক খাচ্ছিল। এরপর দু'তিন মিনিট ধরে কী কথা বললাম নিজেরই মনে নেই। বুঝতে পারলাম ফোনটি রেখে দিয়েছে। তারপর আর আমার সঙ্গে দেখাও হয়নি, কথাও হয়নি। কিছুদিন পর সৌদি আরবে ওমরা হজে গিয়ে শুনতে পেলাম আমার একটি প্রিয় মানুষ এ পৃথিবী থেকে চলে গেছে। মৃত্যুর সময় ওর পাশে আমি ছিলাম না, তবে স্মৃতিগুলো পিছু ছাড়ছিল না। সত্যিই এটা বেদনাদায়ক। ওর সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল ছোট টেবিলে চায়ের মাঝে আর নতুন আলোচনার ফুলঝুরিতে। সঙ্গে প্রয়াত ফিরোজ সাঁই। ফিরোজ সাঁইকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন বিশাল কোনো একটা কিছু করতে যাচ্ছে। ওরই কারণে ওইদিন ওই ক্ষণে আমি চা খাচ্ছিলাম চিটাগাং হোটেলে।

হোটেলটি হয়তো আজও দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ফিরোজ সাঁইও নেই, আজম খানও নেই। সেই আলোচনা থেকে শুরু হলো একদিকে নতুন উল্লাস, অন্যদিকে রসিক সমালোচনা। যুবকরা পাগল হয়ে গেল। আমাদের সুর-মূর্ছনাদীপ্ত মহড়া দেখে আবার কেউ বা নিছক হতাশ হচ্ছিল। এই বুঝি গেল সংস্কৃতি রসাতলে। আমরা কিন্তু ধীরে ধীরে মনের মাঝে পেতে শুরু করলাম নতুন মাটি আর স্বাধীনতার স্বাদ। চোখের পলকে জন্ম নিল বাংলাদেশের রকস্টার আজম খান।

হাইকোর্টের মাজারে শোনা গানগুলো একদিন সারা দেশের মানুষের প্রাণের গান হয়ে উঠবে_ এ কিন্তু আমার কল্পনাতেও ছিল না। শুরু হলো আমাদের দেশব্যাপী সঙ্গীত নিয়ে দাবড়ে বেড়ানোর পালা। যেন আধুনিক বাউলের রূপ ধারণ করে মাঠে, ঘাটে, গ্রামে, গঞ্জে, শহরে, বন্দরে শুরু হলো আমাদের আধুনিকতার চমক। যেখানেই যাই সেখানেই দেখি জনস্রোত। আজমের গান হয়ে উঠল তাদের প্রাণ। ইচ্ছা জাগল গানকে বন্দি করে রাখার। আজকের সিডি আর সে সময়ের গ্রামোফোন রেকর্ড। দুটোই গোলাকৃতি, তবে চলনে-বলনে একেবারেই আলাদা। সবাই মিলে ধরলাম আজমের বড় ভাই আজকের প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক আলম খানকে। চাইলাম তার সহযোগিতা, পেয়েও গেলাম। রেকর্ডিং শুরু হলো ঢাকা রেকর্ডিং স্টুডিওতে। সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। অনেক কিছু নতুন করে শিখলাম, জানলাম আর বুঝতে পারলাম। সে জানা থেকেই বাংলাদেশ পেল 'ওরে সালেকা ওরে মালেকা', 'স্কুল খুইলাছে রে মাওলা', 'এমন একটা মা দে না', 'ও সখিনা', 'একটি গন্ধমের লাগিয়া', 'একদিন তো চলে যাবি' (পিলু মমতাজ) আস্তে আস্তে ভরাট হতে লাগলো বাংলাদেশের সংস্কৃতির নতুন ধারা পপসঙ্গীত।

 

 

::::imageLeft

সম্পাদক ও প্রকাশক : কাজী রফিকুল আলম । সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক আলোকিত মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫ থেকে প্রকাশিত এবং প্রাইম আর্ট প্রেস ৭০ নয়াপল্টন ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা, সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক বিভাগ : ১৫১/৭, গ্রীন রোড (৪র্থ-৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২০৫। ফোন : ৯১১০৫৭২, ৯১১০৭০১, ৯১১০৮৫৩, ৯১২৩৭০৩, মোবাইল : ০১৭৭৮৯৪৫৯৪৩, ফ্যাক্স : ৯১২১৭৩০, E-mail : [email protected], [email protected], [email protected]