ঢাকা রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নারায়ণগঞ্জে ২ আসনে নির্ভার বিএনপি, তিনটিতে বিদ্রোহী সংকট

নারায়ণগঞ্জে ২ আসনে নির্ভার বিএনপি, তিনটিতে বিদ্রোহী সংকট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সংসদীয় পাঁচটি আসনের মধ্যে চলছে প্রার্থীদের নানা সমীকরণ। দীর্ঘ সতেরো বছর নির্বাচনের বাইরে থাকায় নির্বাচন নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে চলছে বাঁচা-মরার লড়াই।

এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দীপু ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে জোটের প্রার্থী জমিয়তে ওলামা মনির হোসাইন কাসেমী এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং একটিতে জোটের প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলীয় ও ভোট সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে। চলছে পক্ষ-বিপক্ষ এবং ভোট বিভক্তির শঙ্কা। তবে নারায়ণগঞ্জ-১ ও ৫ আসনে বিএনপির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকাসহ শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ওই দুটি আসনে সহজেই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয় লাভ করবে বলে প্রত্যাশা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

এদিকে নানা সমীকরণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পাঁচটি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার), নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) ও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসন। এই তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় বিএনপির মধ্যে চলছে জয়-পরাজয়ের আশঙ্কা। এই তিনটি আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপির জোট প্রার্থী রয়েছে।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ ও ৫ আসনে বিএনপির কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই। এমনকি ওই দুই আসনে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীও নেই। বোদ্ধা মহলের মতে, ওই দুই আসন বিএনপির জন্য নির্ভার এবং ওই দুই প্রার্থী সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে জয়ের মালা পরবেন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দীপুকে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এ আসনে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই এবং নেই কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে নজরুল ইসলাম আজাদের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন বিএনপির হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। তিনি এই আসনে তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তাঁর হাত দিয়ে এই আসনে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তাই আঙ্গুর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিপাকে পড়তে পারেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে। এ আসনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। গিয়াস উদ্দিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে মাঠে নামলে দলীয় প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের ভরাডুবি হতে পারে। কারণ এ আসনের বিশাল একটি ভোটব্যাংক হচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জ। গিয়াস উদ্দিন এ এলাকার বাসিন্দা।

এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত থাকাকালে তিনি এখান থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। ফলে এ আসনটি নিয়ে বিপাকে পড়তে পারেন আজহারুল ইসলাম মান্নান।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনটি বিএনপি ছেড়ে দিয়েছে জোট শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর হাতে। কিন্তু এই আসনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আলম এবং সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এর কারণে মোহাম্মদ শাহ আলম ও গিয়াস উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কার হলেও চার আসনের একটি বিরাট ভোটব্যাংক তাদের পক্ষে রয়েছে। কার ভাগ্যে এই আসনটি যাবে, তা বলা মুশকিল। বিদ্রোহী প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকেও নির্বাচন করছেন।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জে রাজনীতির কিং মেকার হিসেবে খ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি এবার রিপাবলিকান পার্টি থেকে নির্বাচন করছেন। তিনি এ আসনে বেশ জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি।

বোদ্ধাদের মতে, বিএনপির জোট প্রার্থী ও বিদ্রোহী দুই প্রার্থী মাঠের লড়াইয়ে থাকায় জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আলীর বিজয়ের পথ সুগম হয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এ আসনে শক্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সিরাজুল মামুন। তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আবুল কালাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

তিনটিতে বিদ্রোহী সংকট,২ আসনে নির্ভার বিএনপি,নারায়ণগঞ্জ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত