ঢাকা সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কলমের পাশাপাশি রক্তদানে মানবিক শেরপুরের সংবাদকর্মীরা

কলমের পাশাপাশি রক্তদানে মানবিক শেরপুরের সংবাদকর্মীরা

শুধু সংবাদের পেছনে ছুটে চলাই নয়, সমাজের ইতিবাচক নানা কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের মতো মানবিক উদ্যোগেও এগিয়ে রয়েছেন শেরপুরের তরুণ সাংবাদিকরা। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা থেকে তারা নিয়মিত নিজেরাই স্বেচ্ছায় রক্ত দিচ্ছেন, পাশাপাশি অন্যদেরও রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করছেন।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং জাতীয় ও স্থানীয় বাংলা-ইংরেজি পত্রিকায় কর্মরত সংবাদকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এই মানবিক কাজে যুক্ত হয়েছেন।

জেলার পাঁচটি উপজেলায় কর্মরত সৌখিন সাংবাদিকদের একটি বড় অংশের মধ্যে এমন মানবিক চর্চা গড়ে উঠেছে। কারও রক্তের প্রয়োজন হলে বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই কেউ না কেউ তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে থাকেন।

দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রক্তের প্রয়োজনীয়তা জানানো হলে সাংবাদিকরা নিজ উদ্যোগে দ্রুত রক্তগ্রহীতা বা তার স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান করে মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন। এ জন্য তাদের একটি বৃহৎ ফেসবুক গ্রুপও রয়েছে।

জেলার মানবিক সাংবাদিকরা স্বেচ্ছায় ওই গ্রুপে যুক্ত হয়েছেন এবং নিয়মিতভাবে বিভিন্ন উপজেলার তরুণ সাংবাদিকরাও এতে সংযুক্ত হচ্ছেন।

মানবিক সাংবাদিকদের নিজ নিজ ফেসবুকে পোস্ট করা ছবি এবং গ্রুপে শেয়ার করা তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, রক্তসৈনিক হিসেবে সাংবাদিক ফজলে রাব্বী রাজন ৫০ বার, মো. আল-আমিন ৪৩ বার, এসএম জুবায়ের দ্বীপ ২৮ বার, নাঈম তালুকদার ২২ বার, মো. মোশারফ হোসাইন ১৭ বার, রাফসান মাহদী ১১ বার, জুবায়দুল ইসলাম ১১ বার, আব্দুল্লাহ আল-আমিন ১০ বার, সুমন সরকার ৯ বার, নূর মোহাম্মদ আকাশ ৮ বার, হেলাল উদ্দিন বাবু ৮ বার, আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ৮ বার, মেহেদী হাসান শামীম ৬ বার, রাজাদুল ইসলাম বাবু ৬ বার, আবু ইলিয়াস সাদ্দাম ৬ বার, তারেক আহসান ৫ বার, দেলোয়ার হোসেন দেলু ৫ বার, শীমানুর রহমান সুখন ৪ বার, রাইসুল ইসলাম রিফাত ৪ বার, মাজহারুল ইসলাম লালন ৩ বার, সেলিম রেজা ২ বার, লিমন আহমেদ ২ বার এবং হাসান মিয়া ১ বার রক্তদান করেছেন।

এছাড়াও ইমরান হাসান রাব্বী, জাহিদুল খান সৌরভ, তারিকুল ইসলাম তারেক, সাকিল মুরাদ, নাঈম ইসলাম, মোশাররফ হোসেন সরকার বাবু, শফিউল আলম লাভলু, নূর হোসেন, আসাদুজ্জান সৌরভ, শাহরিয়ার সাকির, আমানুল্লাহ আসিফ মীরসহ জেলার আরও অনেক সাংবাদিক স্বেচ্ছায় রক্তদান ও অন্যদের উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে মানবিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

রক্তদাতা সাংবাদিকরা জানান, রক্তদান করলে শরীর সুস্থ থাকে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। রক্তদান একটি মহৎ, নিরাপদ ও মানবিক কাজ, যার মাধ্যমে একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। কোনো রোগীর প্রয়োজনে বিনামূল্যে রক্ত দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচানোই তাদের মূল লক্ষ্য।

সাংবাদিকদের এই মানবিক ভূমিকা পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে রক্তদানের আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মানবিক সৌখিন সাংবাদিকদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে আরও সংগঠিতভাবে রক্তদানের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং এতে আরও তরুণ স্বেচ্ছায় যুক্ত হবেন। এতে সব পেশার মানুষ কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

শেরপুরের সংবাদকর্মীরা,রক্তদানে মানবিক
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত