
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার প্রান্তিক খামারিদের জন্য উন্নত জাতের গবাদিপশু উৎপাদন ও কৃত্রিম প্রজনন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মিত উপজেলার বুল কাফ রিয়ারিং ইউনিটটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে উপজেলার খামার মালিকেরা এ ইউনিট থেকে কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৮ সালে উপজেলার লালদিঘী ফতেপুর নামক স্থানে পীরগঞ্জ বুল কাফ রিয়ারিং ইউনিটটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীন কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ একর জমির ওপর এটি নির্মাণে সরকারের ব্যয় হয় ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
এ ইউনিটে উন্নত মানের সিমেন সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা এবং ভ্রূণ স্থানান্তর প্রযুক্তি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় এখানে ইতোমধ্যে অফিস কাম ল্যাবরেটরি, সিমেন কালেকশন শেড, বুল শেড, ফিড গোডাউন, বুল কাফ প্যান শেড এবং ৩০টি আইসোলেশন শেড নির্মাণ করা হয়।
বিগত ২০২৪ সালে এ ইউনিটটির কার্যক্রম শুরু হলে শুরুতে একবার সিমেন উৎপাদনের উদ্দেশ্যে ষাঁড় আনা হলেও পরবর্তীতে সব ষাঁড় সাভার ডেইরি ফার্ম কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে নেই কোনো ষাঁড়, নেই গবেষণা বা উৎপাদন কার্যক্রম। ফলে এ প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।
এ ব্যাপারে পীরগঞ্জস্থ রংপুর বুল কাফ রিয়ারিং ইউনিট কাম মিনিল্যাবের ইনচার্জ ফেরদৌস হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আশা করি খুব শীঘ্রই এখানে কাজ শুরু হবে।
উপজেলার খামারিদের মতে, এই বুল কাফ রিয়ারিং ইউনিটটির কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালু হলে দেশের গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং হাজারো খামারি উপকৃত হবে। তাই তারা এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি কামনা করছেন।