
রংপুরে ‘সংকটে তিস্তা নদী ও আর্থসামাজিক অভিঘাত’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রংপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র আয়োজনে উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি ও অন্যতম স্থপতি (বাপা), প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) এবং অধ্যাপক এশিয়া প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউট সাবেক প্রধান জাতিসংঘ উন্নয়ন গবেষণা ড. নজরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বৈশ্বিক সমন্বয়ক বেন ও সহ সভাপতি বাপা এবং অধ্যাপক, ভূতত্ব ও পরিবেশ বিজ্ঞান কমনওয়েল্থ ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ড. মো. খালেকুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে সমহারে সবকিছুর বন্টন করতে সরকার দায়বদ্ধ। যদিও উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হয়েছে, উত্তরবঙ্গের বড় সমস্যা হলো তিস্তা নদী। ভারতের সাথে সমঝোতার কারণে তিস্তা সমস্যা পিছিয়ে যাচ্ছে। ভারত কখনই চায়না তিস্তা চুক্তি হোক। পরবর্তীতে চিনের সাথে একটি তিস্তা চুক্তি হয়েছে, তিস্তাতে ৬০টি গ্রোয়েন দেওয়া হবে, যা তিস্তার জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে তিস্তার কোন উপকার হবে না। এখানে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কাজ হবে, তাই কাজটি ভবিষ্যৎ চিন্তা করে করতে হবে। এই টাকা সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। এর দায় সকলকে নিতে হবে। পরে আর একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, আপনাদের সকলকে এসব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে, প্রয়োজনে আন্দোলনের মাধ্যমে এর প্রতিকার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাপা রংপুর জেলার আহবায়ক এড. শামীমা আখতার শিরিনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রশিদুল সুলতান বাবলুর সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাপা’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, রংপুর চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হোসেন, তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম, রংপুর আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন এবং শীতলক্ষ্য বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম প্রমূখ।
এ সময় তিস্তাপারের মানুষ, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক সমাজ উপস্থিত ছিলেন।