ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ফরিদগঞ্জের রূপসা ইউনিয়নের নারীরা ৫৬ বছরেও ভোট বিমূখ

ফরিদগঞ্জের রূপসা ইউনিয়নের নারীরা ৫৬ বছরেও ভোট বিমূখ

ভারতের ঐতিহাসিক জৈনপুরী পীরের নসিহতে স্বাধীনতা-পূর্ব ১৯৬৯ সাল থেকে নির্বাচনে সরাসরি ভোট বিমূখ চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা ইউনিয়নের নারীরা। ওই এলাকায় মহামারি দেখা দিলে এমন নির্দেশনা দেন ওই পীর। তবে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ভোটমুখী করার চেষ্টা করা হলেও কার্যকর ভূমিকার অভাবে এখনো ভোট বিমূখ নারীরা।

ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবীণ নারী-পুরুষদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যাশা, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়বে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ১৬ নম্বর রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে জনসংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার। ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৬৯৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ হাজার ৫৯৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৩৯৬ জন।

ইউনিয়নের প্রধান কেন্দ্র গৃদকালিন্দিয়া বাজার, কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসাগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে নারীদের বিচরণ। পর্দার মধ্যে থেকেই নারীরা তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করছেন। ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি বিভিন্ন সেবা নিতেও আসছেন নারীরা।

ইউনিয়নের চর মান্দারি গ্রামের জমাদার বাড়ির ৮০ বছরের বৃদ্ধ শফিউল্যাহ বলেন, ১৯৬৯ সালে এই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কলেরা মহামারি দেখা দেয়। সে সময় ভারতের ঐতিহাসিক জৈনপুরী দরবারের পীর এই এলাকায় সফরে ছিলেন। তখন লোকজন তার কাছে গেলে নারীদের পর্দায় থাকার নসিহত করেন তিনি। তখন থেকেই নারীরা পর্দার খেলাপ হওয়ার ভয়ে ভোটে অংশগ্রহণ করছেন না।

ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা প্রবীণ বেশ কয়েকজন নারী জানান, তাদের ইউনিয়নে মহিলাদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে হুজুর নিষেধ করেছেন। সে কারণে তাঁর নির্দেশনা মেনে চলছেন তারা।

চর মান্দারি গ্রামের সুলতান খান (ক্বারী) বাড়ির সুফিয়া বেগম বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে কয়েক গ্রামের কিছু নারী ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা পীরের নির্দেশনা অমান্য করায় তাদের কয়েকজনের নানা রোগ ও অঙ্গহানির মতো অসুস্থতা দেখা দেয়। ভয় পেয়ে এরপর থেকে আর কেউ ভোট দেয়নি।

একই বাড়ির আরও দুইজন প্রবীণ নারী বলেন, পীরের নসিহতে তারা ভোট দেন না। তবে ভোট দেওয়ার জন্য কেউ এসে তাদের বলেও না। এবার অন্য নারীরা ভোট দিলে তারাও দেবেন বলে জানান।

ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য সাজেদা আক্তার বলেন, ৯০-এর দশকে কোনো এক নির্বাচনে তিনি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে গেলে হুজুরের নির্দেশনার কথা মনে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিজে ভোট না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পছন্দের প্রতীক বলে ভোট সম্পন্ন করান। এরপর থেকে তিনি নিজেই ভোট দিয়ে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, তিনি নারীদের বলছেন ভোট তাদের অধিকার। অবশ্যই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। পর্দা পালন করেই ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং সে ধরনের ব্যবস্থা আছে।

ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, জৈনপুরী হুজুর নারীদের পর্দায় থাকার কথা বলেছেন। ভোট দেওয়া কিংবা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো নির্দেশনা দেননি। এবছর নারীদের ভোটমুখী করার চেষ্টা চলছে।

ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির বলেন, হুজুরের নসিহতের পর থেকেই এখানে নারীরা ভোট দেন না। তবে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা ভোট দেবেন বলে আশ্বাস দিচ্ছেন।

একই ইউনিয়নের বাসিন্দা চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ বলেন, এখানে নামমাত্র কিছু নারী ভোট দেন। এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য চেষ্টা চলছে।

ভোট বিমূখ,নারীরা ৫৬ বছরেও,ফরিদগঞ্জের রূপসা ইউনিয়ন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত