
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীর নাব্যতা ফেরাতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ এর তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্পকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মেঘাই নদীবন্দর ঘাটের দক্ষিণ এলাকায় এ কাজের উদ্বোধন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কাজিপুরের যমুনা নদীর নৌবন্দর থেকে বিভিন্ন চ্যানেলে নাব্যতা নেমে আসে। এতে ওই অঞ্চলে নৌ যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে চরাঞ্চলবাসী উপজেলা কার্যালয়ের যোগাযোগে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়ে থাকে। অবশেষে এসব দুর্ভোগ লাঘবে সরকার এ ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ শুরু করে। মেঘাই নদীবন্দর থেকে যমুনার মাঝপথে নাটুয়ারপাড়া নদীবন্দর ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার নৌপথের মধ্যে প্রয়োজনীয় সাড়ে ৩ কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হচ্ছে।
শনিবার দুপুরের দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন।
এ সময় সেনাবাহিনীর কাজিপুর ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন আসফাক, ক্যাপ্টেন গালিব, বিআইডাব্লিউটিএ'র সাইট ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ ও মামুন উপস্থিত ছিলেন।
কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়ন প্রায় পৌনে ২ লাখ মানুষ উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌকা। কিন্তু প্রতিবছরের মৌসুমে যমুনার নাব্যতা কমে যাওয়ায় প্রায় ৪ মাস যোগাযোগে এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়ে থাকে। এ দুর্ভোগ লাঘবে যমুনা নদী খননের দাবি করে আসছিল চরাঞ্চলবাসী। একাধিকবার এ দাবি করেও সুফল পায়নি তারা। অবশেষে উপজেলা প্রশাসন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চরের এই ভয়াবহ যাতায়াতের সুবিধার্থে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু করা হয়। এ ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের ব্যয় বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পর্যায়ক্রমে এ খননকাজ উপজেলার আরও ও কয়েকটি নৌ চ্যানেল খনন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এ উপজেলার চরাঞ্চল মানুষের যোগাযোগে চরম দুর্ভোগ দীর্ঘদিন ধরে। এ বিষয় আগেই উপলব্ধি করতে পেরেছি। এজন্য শীতের শুরু থেকেই এ বছর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিআইডাব্লিউটিএ এ ক্যাপিটাল ড্রেজিং কাজ শুরু করা হয়েছে।
এ কাজ উপজেলা প্রশাসন দেখাশোনা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।