
এক রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে কৃষক সোলায়মানের। মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের (বাহাদুরপুর গ্রামের) ৫ একর জমির আলু বৃষ্টির পানিতে পচে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কৃষক সোলায়মানের পথে বসার উপক্রম দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, মরহুম বাদশা মিয়ার ছেলে সোলায়মান চলতি মৌসুমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৫০০ শতক জমিতে আলুর চাষ করেন।
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার তার জমিতে বাম্পার ফলনের আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতে জমিতে পানি জমে যায়। এতে করে ৩ দিনের মধ্যেই পুরো ক্ষেতের আলু পচে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সোলায়মান বলেন, গত বছরও আলু চাষ করে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। এবার ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করি। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু এক রাতের ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি পথে বসে গেছি। পাওনাদারের টাকা দিতে পারছি না, কিস্তিও বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডঃ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে আমার আকুল আবেদন—আমাকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে। সরকারি প্রণোদনা বা সহায়তা থাকলে তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এলাকায় আরও কয়েকজন কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত সহায়তা না পেলে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।