
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজের ৭ দিন পর ৭ মাস বয়সী এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এর আগে, সকাল ১০টায় উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি এলাকার বিলের একটি ডোবা থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশু তানভীর আহমেদ মুজাহিদ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি পুরানগাঁও এলাকার মেরাজ মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে নিহত শিশুর বাবার বিরুদ্ধে। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে মেরাজ মিয়া ও শিশুটির দাদি রাবেয়া পলাতক রয়েছেন।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই বছর আগে ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের তাসলিমা বেগমের সঙ্গে একই ইউনিয়নের পুরানগাঁও এলাকার ফেলু মিয়ার ছেলে মেরাজ মিয়ার প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হয়। সাত মাস আগে তাদের এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।
কিছুদিন আগে স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে তুচ্ছ পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হওয়ার পর তাসলিমা বেগম তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। কয়েকদিন পর গত ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) শিশুটির দাদি এসে অসুস্থ নাতিকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাসলিমার কাছ থেকে নিয়ে যান। কিন্তু সারাদিন পেরিয়ে গেলেও তিনি আর শিশুকে মায়ের কাছে ফেরত দিয়ে যাননি।
পরদিন তাসলিমার বাবার বাড়ির লোকজন শিশুকে ফিরিয়ে আনতে মেরাজ মিয়ার বাড়িতে গেলেও সেখানে শিশু তানভীরকে পাওয়া যায়নি। পরে গত ২১ এপ্রিল শিশুর মা তাসলিমা বেগম ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আজ সকালে স্থানীয়রা ধানের জমি দেখতে গিয়ে একটি ডোবায় শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
শিশুটির মা তাসলিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর বাবার বাড়িতে চলে আসি। পরে আমার শ্বাশুড়ি এসে ওষুধ কিনে দেওয়ার কথা বলে আমার সন্তানকে নিয়ে যায়। এর পর থেকেই সে নিখোঁজ হয়। পরিকল্পিতভাবে আমার সন্তানকে আমার স্বামী হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।”
ভৈরব থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি বিষয় প্রক্রিয়াধীন।”