
তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। কলা, পেঁপে ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের মাঠ লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ও নাটুদহ ইউনিয়নের ওপর দিয়ে ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিও হওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মনিখালি, মাজেশিষ ও বেদের মাঠজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের চিত্র। কলা ও পেঁপে বাগানগুলো ঝড়ে সম্পূর্ণভাবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে, অনেক গাছ মাঝখান থেকে ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে। একই সঙ্গে পাকা ধানের ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আলী হোসেন, খাইরুলসহ একাধিক কৃষক জানান, ঝড় শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে হঠাৎ প্রচণ্ড বাতাস ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়, যা কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো এলাকার ফসল ধ্বংস করে দেয়। তাদের দাবি, প্রতি বিঘা জমিতে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ছয় কোটি টাকা। তবে কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবের সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক মূল্যায়নে প্রায় ১৫ হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কলা ৪ হেক্টর, পেঁপে ৪ হেক্টর এবং ধান ৭ হেক্টর রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে কৃষকদের সঙ্গে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ অন্তত তিন গুণ বেশি।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ১৭৫ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। এর বড় একটি অংশই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, সার, বীজ, কীটনাশক ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই সরকারি সহায়তা ছাড়া টিকে থাকা অসম্ভব বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরি করে জরুরি আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা পুনরায় কৃষিকাজ শুরু করতে পারেন।