
হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার দাউদনগর বাজার সংলগ্ন বাল্লা গেইট এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে একাধিক দোকানে হানা দিয়ে নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় চোরেরা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছিল। জীবননাশের আশঙ্কায় দায়িত্বরত নৈশপ্রহরীরা তাদের দায়িত্বস্থল ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। এই সুযোগে চোরচক্র বৃষ্টির শব্দকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে দোকানের সাটারের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং একে একে কয়েকটি দোকান লুট করে।
পরদিন সকালে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে গিয়ে তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত বিষয়টি শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, চোরচক্র মূলত নগদ টাকা ও সহজে বহনযোগ্য দামী পণ্য লক্ষ্য করে এই চুরি চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে জালাল স্টোর, পল্লী চিকিৎসক বিধান দেবের চেম্বার এবং আনন্দ ভিডিওগ্রাফি।
জালাল স্টোরের মালিক মো. জালাল মিয়া জানান, তার দোকান থেকে নগদ প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা, প্রায় ৭০ হাজার টাকার বিড়ি-সিগারেট এবং ৪০ হাজার টাকার মোবাইল কোম্পানির এমবি ও মিনিট কার্ড চুরি হয়েছে। এছাড়া সাবান, শ্যাম্পুসহ বিভিন্ন পণ্যও নিয়ে গেছে চোরেরা।
অন্যদিকে, পল্লী চিকিৎসক বিধান দেব জানান, তার চেম্বারের ড্রয়ারে থাকা প্রায় ১০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। এছাড়া আনন্দ ভিডিওগ্রাফিসহ আরও কয়েকটি দোকানে চুরির চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা পাহারাদারদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত চাঁদা দিয়ে পাহারাদার নিয়োগ করা হলেও বিপদের সময় তাদের অনুপস্থিতি পুরো বাজারকে অরক্ষিত করে তোলে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা নিয়মিত পাহারাদারদের জন্য চাঁদা দিই। কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাদের না পাওয়া খুবই হতাশাজনক। বৃষ্টির সময়ই তো চুরির ঝুঁকি বেশি থাকে।”
এদিকে, শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল কালাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
ঘটনাটি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।