
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার টেকুয়াপাড়া গ্রামে গো-খামারি মালিকদের বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ চিঠিতে খামারিদের ঘরের দরজা খোলা রাখতেও বলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা ও বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, কয়েক দিনে দুর্বৃত্তরা ওই গ্রামে ১৫টি বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি দিয়েছে। এসব চিঠিতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের ‘রঘু ডাকাত’ পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসবো। এজন্য দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস।” চিঠি পাওয়ার পর গো-খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়াও একই গ্রামের কৃষক আবু সাঈদের বাড়ির গরু লুট করতে ব্যর্থ হয়ে তার মেয়েকে রক্তমাখা চিঠিতে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ওই চিঠিতে লেখা রয়েছে, “আপনার মেয়ের জন্য আজকে বেঁচে গেলেন, ভাববেন না আবার বাঁচবেন। এই বছরের প্রথমবার মিস হলো ওই মেয়ের জন্য, দেখে নেবো। মেয়েদের এত সাহস ভালো না। কাল রাতে বাঁচতে চাইলে দরজা খোলা রাখবেন, না রাখলে জিন্দা লাশ বানিয়ে দিবো। ইতি রঘু ডাকাত। কোড নম্বর ০৬।”
এভাবে প্রতিটি চিঠিতে কোড নম্বর দেওয়া আছে। এদিকে কয়েক দিন আগে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে খামারি আবু হোসেনের বাড়ি থেকে একটি ষাঁড় এবং আমজাদ হোসেনের বাড়ির শোকেসের লকার ভেঙে নগদ টাকা ও গহনা লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনার তদন্ত চলছে এবং বেশ কয়েকটি রক্তমাখা চিঠিও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ওই গ্রামের যুবকরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। শনিবার দুপুরে বেশ কয়েকটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয় এবং পুলিশের তৎপরতা ও বিশেষ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন বলেন, এ ঘটনা জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।