ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দামুড়হুদায় মৌসুমি ফলের ঘ্রাণে উৎসবের আমেজ

দামুড়হুদায় মৌসুমি ফলের ঘ্রাণে উৎসবের আমেজ

জ্যৈষ্ঠ এলেই যেন বদলে যায় গ্রামের চিত্র। চারদিকে পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস, গাছে গাছে ঝুলে থাকা রসালো আম, কাঁঠাল, লিচু ও জামের সমারোহে মুখর হয়ে ওঠে গ্রামবাংলার প্রকৃতি। এ যেন শুধুই একটি মাস নয়, গ্রামীণ জনপদের প্রাণের মধুমাস।

দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে রাস্তার পাশ, বাগান কিংবা ক্ষেতের ধারে সর্বত্রই এখন ফলের বাহার। গাছভর্তি আমের থোকা, কাঁঠাল, লাল টুকটুকে লিচু আর পাকা জামের রঙে মোহিত হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধরা। সকাল-সন্ধ্যা বাতাসে ভেসে আসছে পাকা ফলের মন মাতানো ঘ্রাণ,

স্থানীয়রা জানান, জ্যৈষ্ঠ মাস মানেই আনন্দের বার্তা। এই মাসে গ্রামের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। দূরে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের জন্য উপহার হিসেবে পাঠানো হয় আম, কাঁঠাল, লিচুসহ নানা ফল। এতে যেমন বাড়ে আত্মীয়তার বন্ধন, তেমনি মধুমাস হয়ে ওঠে আবেগ আর স্মৃতিময় অধ্যায়।

রোববার নাটুদহের খলিসাগাড়ী গ্রামের ফলপ্রেমী শহিদুল ও আনোয়ার হোসেন বলেন, জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই গ্রামের আলাদা একটা সৌন্দর্য তৈরি হয়। গাছের ফল আর তার ঘ্রাণে মন ভরে যায়, শহরের মানুষ হয়ত ফল খায়, কিন্তু গ্রামে বসে গাছ থেকে পেড়ে খাওয়ার আনন্দটা একেবারেই অন্যরকম।

কৃষক ও বাগান মালিকদের মুখেও এখন হাসি তারা বলছেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বিশেষ করে আম, লিচু ও কাঁঠালের উৎপাদন আশানুরূপ হওয়ায় বাজারেও ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।

নাটদহ ইউনিয়ন কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়ে প্রায় ১৮ থেকে ২০ প্রকারের দেশীয় ফল বাজারে ওঠে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নাটুদহসহ আশপাশ এলাকার ফল স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমনকি বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব। তবে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন বলে আশা করছি।

দামুড়হুদা,মৌসুমি ফল,ঘ্রাণ,উৎসবের আমেজ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত