
রংপুরে পৃথকভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার বেলা ১২টায় রংপুর জেলা বিএনপির আয়োজনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
রংপুর মহানগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়স্থ বিএনপি পার্টি অফিসের সামনে এ আয়োজন করা হয়।
আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আফসার আলী, সদস্য অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী, মো. সাজেদুর রহমান রানা, জেলা যুবদলের সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম নাজু, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোছা. মমতাজ বেগম রাণীসহ জেলা ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রূপকার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে তাঁর অবদান নেই। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ১৯৭১ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য যখন প্রধানমন্ত্রী দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন, তখন সেই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে জামায়াতের বটবাহিনী বিএনপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে।
আজ শহীদ জিয়ার সৈনিক হিসেবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো জামায়াতের সব চক্রান্ত রুখে দেওয়া এবং বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কাজের কথা মানুষের কাছে তুলে ধরা। জামায়াতের হাত থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করা। বিএনপি পরিবারের আত্মত্যাগ এবং রক্তের ঋণ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।
আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শেষে গরিব, দুঃখী ও দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
এদিকে শনিবার দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁর বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে বক্তব্য দেন। পরে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শওকত আলী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিটি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ এবং চিকিৎসক ড. জাবেদ আখতার।
দিবসটি উপলক্ষে বাদ জোহর নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে মহানগর বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।