
লালমনিরহাটে ধরলা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে দুইদিন পর বড় ভাই এবং তিনদিন পর ছোট ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এর আগে রোববার দুপুরে সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ধরলা নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হয় তারা।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার মোগলহাট ট্যাম্পু স্ট্যান্ড এলাকার হেলাল হোসেন ও সেলিনা বেগম দম্পতির ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র সাব্বির হোসেন এবং অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাওন হোসেন। তারা উভয়েই স্থানীয় মোগলহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বন্ধু মেহেদিকে সঙ্গে নিয়ে ধরলা নদীতে গোসল করতে নামেন সাব্বির ও সাওন। একপর্যায়ে নদীর স্রোতে পড়ে পানিতে তলিয়ে যায় দুই ভাই। দুই ভাইকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের বন্ধু মেহেদিও পানিতে ডুবে যায়। এ সময় তীরে থাকা এক জেলে দ্রুত নদীতে নেমে মেহেদিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে সাব্বির ও সাওন নিখোঁজ হয়ে যান।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, মোগলহাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা এবং ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে রংপুর থেকে বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। প্রথম দিনের দীর্ঘ চেষ্টার পরও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন সোমবার উদ্ধার অভিযানের দ্বিতীয় দিনে নদীর বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার কাজ চালানো হয়। এদিন সাব্বির হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর মঙ্গলবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ ছোট ভাই সাওন হোসেনের মরদেহও উদ্ধার করে।
এদিকে দুই ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে পরিবারসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, একই পরিবারের দুই সন্তানকে হারানোর ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষ শোকাহত।
লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রোকন উজ্জামান জানান, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানে টানা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। সোমবার বড় ভাই সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সকালে ছোট ভাই সাওনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।