ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রমেকের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ তিন এমপির, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানানো সিদ্ধান্ত

রমেকের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ তিন এমপির, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানানো সিদ্ধান্ত

উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রংপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক রায়হান সিরাজী এবং রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন।

রোববার (১৪ জুন) সকালে তারা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, চিকিৎসাসেবা, বিভিন্ন ওয়ার্ড, রোগীদের ভোগান্তি, বিভিন্ন পরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও ওষুধসেবা পরিদর্শন করেন।

এ সময় রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ চিকিৎসক এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে রংপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল সাংবাদিকদের বলেন, রমেক হাসপাতালে আউটসোর্সিং ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের কারণে আজকের এই দশা। আমরা আজ স্বশরীরে রংপুর মেডিকেলের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবগত হলাম। আমরা তিনজন এমপি এখানে এসেছি। আমরা লিখিত আকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানাব এবং এর ব্যবস্থা নেব। আমাদের এই হাসপাতালে ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে দালাল চক্র অনেক শক্তিশালী। তাই তাদের মোকাবিলায় রমেক হাসপাতালে একটি পুলিশ ক্যাম্পের প্রয়োজন। কেননা দালালরা স্থানীয় প্রভাব খাটায়।

তিনি বলেন, ইতিপূর্বে আমি সংসদে রমেক হাসপাতালের বিষয়ে বক্তব্য রেখেছি। সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে লিখিত জবাব দিয়েছেন। তিনি রংপুর মেডিকেলে জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন এবং কার্যক্রম চলমান আছে বলে আমাকে জানিয়েছেন। রংপুর মেডিকেলে জনবল ও যন্ত্রপাতির অনেক ঘাটতি রয়েছে। আমরা আজ তিন এমপি এখানে এসে দেখে গেলাম। সমন্বিতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে।

এমপি রায়হান সিরাজী বলেন, এই হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন ২৬টি সচল রয়েছে, ২টি মেরামতযোগ্য এবং ৪টি মেরামতের অযোগ্য। সিটি স্ক্যান মেশিনের মধ্যে ৩টি সচল এবং ২টি মেরামতের অযোগ্য। এমআরআই মেশিনের মধ্যে ৩টি সচল এবং ২টি মেরামতের অযোগ্য। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনের মধ্যে ১৩টি সচল, ৩টি মেরামতযোগ্য এবং ১০টি মেরামতের অযোগ্য। এই হচ্ছে রংপুর মেডিকেলের চিত্র। তাহলে চিকিৎসা কীভাবে হবে? আমরা ঢাকায় গিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বসব। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলে ভালো, নতুবা আমরা সংসদে বিষয়টি উপস্থাপন করব। আমরা আশা করছি, সমন্বিত চেষ্টায় এর উপায় বের করতে পারব।

এ সময় এমপি গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা পরিকল্পনা করে তিনজন এমপি একত্রিত হয়ে রমেক হাসপাতালে এসেছি এবং সবকিছু নিজের চোখে দেখে গেলাম। ঢাকায় গিয়ে আমরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবগত করব এবং এর সুরাহা করব। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে এর সুফল আমরা পাব।

এদিকে শনিবার এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মরদেহ আটকে রেখে মৃত ব্যক্তির ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগের ঘটনাও পরিদর্শনকালে আলোচনায় আসে। এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে সংসদ সদস্যরা বলেন, চিকিৎসাসেবার সঙ্গে মানবিক আচরণ ও পেশাগত নৈতিকতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রমেক হাসপাতালে প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে সেবা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও সচল যন্ত্রপাতির অভাবে হাসপাতালের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানানো,তিন এমপি,রমেকের অব্যবস্থাপনা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত