ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গুণগত ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে চাই

গুণগত ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে চাই
প্রফেসর মো. গোলাম মাজেদ

প্রশ্ন: পরিচালক হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনার পরিকল্পনা কী?

প্রফেসর মো. গোলাম মাজেদ: পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমার কাজের পরিধি অনেক বেড়ে গেছে। আগে একটি কলেজের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ ছিল, এখন রংপুর অঞ্চলের শত শত কলেজ, হাজার হাজার বিদ্যালয় এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এটি আমার জন্য সৌভাগ্যের এবং একই সঙ্গে বড় দায়িত্বের বিষয়। আমার প্রথম পরিকল্পনা হলো—বর্তমান সরকারের দেওয়া চলমান শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সফলভাবে বেগবান করা। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন উন্নত বিশ্বের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেধার যুদ্ধে জয়ী হতে পারে, সেভাবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা।

গত সোমবার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে দুটি কলেজ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। তদন্ত শেষে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ হয়। সেখানে আমি বলেছি, দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের ব্যক্তিগত স্থাবর সম্পদ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, কিন্তু মহান আল্লাহ আমাদের যে মেধা দিয়েছেন, সেটিই সবচেয়ে বড় সম্পদ। এ মেধা নামক বৃহৎ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আমরা বিশ্বে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারি, তৈরি করতে পারি দেশের জন্য টেকসই অর্থনীতি।

প্রশ্ন: শিক্ষকদের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী?

উত্তর: শিক্ষকদেরই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “সবার আগে বাংলাদেশ।” এই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে গুণগত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে হবে। একজন দক্ষ শিক্ষকই একজন দক্ষ শিক্ষার্থী তৈরি করতে পারেন।

প্রশ্ন: আপনি ইংরেজি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন?

উত্তর: আমি কখনোই বাংলা ভাষাকে ছোট করে দেখি না। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা এবং আমাদের অহংকার। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতা করতে হলে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। কারিগরি কাজে এবং ইংরেজি ভাষার দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারব—আমি বাংলাদেশের মানুষ, আমি বাংলা ভাষার মানুষ। এতে যেমন আমাদের ব্যক্তিগত উন্নতি হবে, তেমনি বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও আরও উজ্জ্বল হবে, সেই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।

প্রশ্ন: কর্মমুখী শিক্ষা সম্পর্কে আপনার পরিকল্পনা কী?

উত্তর: আমি চাই, ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুক। যেমন—ওয়েল্ডিং, রেফ্রিজারেশন, প্লাম্বিং, মোবাইল সার্ভিসিং, ইলেকট্রিক্যালসহ বিভিন্ন বিষয়ে ছয় মাস বা এক বছরের কোর্স করে দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এর সঙ্গে যদি তারা ইংরেজিতে দক্ষ হয়, তাহলে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আমাদের কারিগরি শিক্ষার প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমেই বেকারত্ব কমানো সম্ভব।

প্রশ্ন: সমাজের প্রতি আপনার আহ্বান কী?

উত্তর: আমাদের সমাজে অনেক মেধাবী কিন্তু অসচ্ছল শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা যদি সবাই মিলে তাদের পাশে দাঁড়াই, তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া সম্ভব। শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। প্রতি ইউনিয়নের ভোটারগণ প্রতিবছর মাত্র একশত টাকা করে ডোনেট করে ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার একটি ফান্ড তৈরি করতে পারেন, যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের হতদরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া ও চিকিৎসা ব্যয়ের একটি বড় অংশ মেটানো সম্ভব হবে।

প্রশ্ন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে কী পদক্ষেপ নেবেন?

উত্তর: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো আমারও কিছুটা ধারণা আছে। তবে এগুলো একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। আমি আমার দায়িত্বের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়গুলো দেখব। আমার একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। সাংবাদিক, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা যদি সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। আমি আশ্বস্ত করছি, কোনো অনিয়মের তথ্য পেলেই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

প্রফেসর মো. গোলাম মাজেদের জন্ম গাইবান্ধা জেলায়। তাঁর বর্তমান স্থায়ী ঠিকানা নীলফামারী জেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গা গ্রামে। ২০০৩ সালে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে নীলফামারী সরকারি কলেজে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১১ সালে রংপুর সরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০২১ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় নীলফামারী সরকারি কলেজে যোগ দেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৯ মে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রংপুর অঞ্চল, রংপুরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তিনি সবার দোয়া প্রার্থী।

মো. গোলাম মাজেদ,প্রফেসর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত