
সিরাজগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে এনে যুবক পলাশকে (২৫) নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। তিনি কামারখন্দ উপজেলার বড় পাকুরিয়া গ্রামের পাশাণ প্রামানিকের ছেলে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারে এখনও শোকের মাতম কাটেনি। তবে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নারীসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কড্ডা কৃষ্ণপুর গ্রামের জামাল মোল্লার মেয়েকে বিয়ে করেন পলাশ। একই গ্রামের জুয়েল প্রায় ২ বছর আগে চাকরি দেওয়ার কথা বলে পলাশের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেয় এবং তাকে চাকরি দিতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ওই টাকা ফেরত চান পলাশ। জুয়েল কোরবানির ঈদের আগে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
এ প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে গত ১২ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় টাকা নেওয়ার জন্য পলাশকে জুয়েলের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। ওইদিন রাতে পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা পলাশকে বেদম মারধর ও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন গভীর রাতে তিনি মারা যান।
মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে রাতেই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত জামেলা (৫৫), জুয়েল মোল্লা (৫৫) ও কামরুল ইসলামকে (২২) আটক করে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে গত ১৪ জুন নিহতের বাবা বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।