
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে এক মাস ধরে নিখোঁজের পরও যুবকের সন্ধান না মেলায় স্ত্রীর আহাজারি থামছে না। নিখোঁজ স্বামীকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় ফিরে পেতে প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালো আকুতি জানিয়েছেন নিখোঁজের স্ত্রী ও স্বজনরা।
জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে আরিফ মিয়া ওরফে সালমান (১৮) প্রায় ১ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার খোঁজে দিনরাত ছুটছেন স্ত্রী, মা, শ্বশুর, শাশুড়ি, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা। অপেক্ষা আর উৎকণ্ঠায় কাটছে তাদের দিন।
ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী সাথী আক্তার। পরিবারের দাবি, জীবিত না পেলেও অন্তত লাশটি যেন খুঁজে বের করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিখোঁজের পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এ দাবি জানান তার স্ত্রী সাথী আক্তার। সালমান পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।
এলাকাবাসী জানায়, ১৭ মে সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো সালমান তার বন্ধু শান্ত মিয়ার সঙ্গে বাড়ি থেকে ঘুরতে বের হন। গভীর রাতে সালমান বাড়িতে না ফিরলে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।
পরে শান্ত মিয়াকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, সালমান বাড়িতে চলে গেছেন, তার সঙ্গে ছিলেন না। এরপর থেকেই সালমানকে খুঁজে না পেয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর সালমানের পিতা মো. ফজলুর রহমান হোসেনপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শাহেদল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আহাদ, আলোকিত যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, শান্ত মিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে। কারণ নিখোঁজের আগপর্যন্তও শান্ত তার সঙ্গে ছিল।
এ বিষয়ে পরিবারের অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মো. আজিজুর রহমান নিখোঁজ সালমানের বন্ধু শান্তকে গ্রেফতার না করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেন।
এদিকে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আরিফ মিয়া ওরফে সালমান নিজেই মোবাইল বিক্রি করেছিলেন হোসেনপুরের একটি দোকানে। বিক্রি হওয়া মোবাইলের পাসওয়ার্ডও তিনি নিজেই দোকানদারকে দিয়ে গেছেন।
এদিকে নিখোঁজ স্বামীর সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা স্ত্রী সাথীর বুকফাটা কান্নায় কুড়িমারা গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।