ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সিরাজগঞ্জে ড্রাগন ফলে বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

সিরাজগঞ্জে ড্রাগন ফলে বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

সিরাজগঞ্জে এবার ড্রাগন ফল বাগান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ চাষে অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। বর্তমানে বাজার ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি। লাভজনক এ ফল বাগান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে এ ফল বাগান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

কৃষকেরা এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষ করেছেন। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ফলের চাষ বেশি হয়েছে। এছাড়া চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানেও এ ফলের চাষ হয়ে থাকে।

প্রতিবছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করতে হয়। তবে সারা বছরও হাইব্রিড জাতের ড্রাগন ফল চাষ করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে উঁচু, দোআঁশ ও বালিজাতীয় জমিতে এ চাষাবাদ ভালো হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপণ করা হয়।

এসব ড্রাগন ফলের চারার মধ্যে রয়েছে বাউ-১, ২ ও ৩। এ অঞ্চলে বাউ-৩ জাতের ড্রাগন ফল বাগান বেশি চাষ হয়ে থাকে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এ ফল চাষে প্রথমে জমির ২ গজ পরপর সিমেন্টের খুঁটি ও জিআই তার দিয়ে স্ট্রাকচার তৈরি করতে হয়। এ স্ট্রাকচার ঘিরে ফলের চারা রোপণ করা হয়। প্রায় ৬ মাস পর বাগানের গাছে ফুল ফুটে। এ ফুল দেখতে অনেকটা সূর্যমুখী ফুলের মতো। সকাল ও পড়ন্ত বিকেলে এ বাগানে সেলফি তোলারও হিড়িক পড়ে। আর এ ফুল থেকেই ড্রাগন ফল উৎপন্ন হয়ে থাকে।

এ ফল বাগানে স্ট্রাকচারে ৬ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত ফল উৎপাদন হয়ে থাকে। এবার এ ফল বাগান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে এবং খরচ কম, লাভ বেশি। এতে এ ফল বাগান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা।

এরমধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দইভাঙ্গা নদীর তীরে ব্রক্ষ্মখোলা গ্রামের আদর্শ কৃষক ও উদ্যোক্তা এস এম ইদ্রিস আলী (৬৫) এবার তার প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে বাউ-৩ ড্রাগন ফল বাগান চাষ করেছেন। এ বাগানে গত বছরের চেয়ে এবার উৎপাদনও বেশি হয়েছে।

তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, “২০২৩ সাল থেকে এ ড্রাগন ফল বাগান চাষ করছি। এ চাষে প্রথমে কিছুটা ত্রুটি ঘটলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে এ চাষে সফলতা পাচ্ছি। প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে এ বাগানের ফল উৎপাদন হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি কেজি গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি করছি। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ফল গড়ে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য জাতের ড্রাগন ফল ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই বাগান থেকে প্রায় দেড় মেট্রিক টন ফল বিক্রি করা হয়েছে। আরও ৭ থেকে ৮ মেট্রিক টন ফল উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। প্রতিবিঘা জমিতে এ চাষে প্রায় ২ লাখ টাকা লাভ হয়ে থাকে। এ ফল খেলে ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগে উপকার হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে এ বাগান চাষ দেখে এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ইতিমধ্যেই স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনেকেই এ ফল বাগান চাষ শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, “এবার এ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। লাভজনক এ ফল বাগান চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শও দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, এ চাষে ইতিমধ্যেই অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। বাজারে এ ফলের দাম ভালো থাকায় তারাও খুশি।

কৃষকের মুখে হাসি,বাম্পার ফলন,ড্রাগন ফল,সিরাজগঞ্জ
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত