
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মাদকে আসক্ত হয়ে মানসিক বিকৃতির ফলে ঘুমন্ত বাবাকে মসলা বাটার শিল-পাটা দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে নিজ সন্তান।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার দেউলি সুবিদখালী ইউনিয়নের পূর্ব সুবিদখালী গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম উত্তম দেবনাথ (৬০)। তিনি ওই এলাকার মৃত মহেন্দ্র দেবনাথের ছেলে এবং পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত মাদকাসক্ত ছেলে তাপস দেবনাথ (৪০)-কে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর উত্তম দেবনাথের ছেলে তাপস দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার দিন রাতে প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে উত্তম দেবনাথ ও তার ছেলে তাপস ঘরের ভেতরে এবং স্ত্রী কানন দেবনাথ ঘরের পেছনের বারান্দায় ঘুমাতে যান।
ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে বিকারগ্রস্ত ছেলে তাপস হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে ঘরে থাকা মসলা বাটার ভারী শিল-পাটা দিয়ে তার বাবার কপালের ডান পাশের ভ্রুর ওপরে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে আঘাত করে। এ সময় উত্তম দেবনাথের আত্মচিৎকার শুনে তার স্ত্রী কানন দেবনাথ ছুটে আসেন।
ঘরের ভেতর স্বামীর রক্তাক্ত ও বীভৎস অবস্থা দেখে তিনি চিৎকার করতে করতে প্রতিবেশী বাবুল দেবনাথের ঘরে যান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উত্তম দেবনাথকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান এবং থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই ঘাতক ছেলে তাপস দেবনাথকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, তাপস আনুমানিক ১৫ বছর আগেও স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান দিতেন। তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। এরপর অতিরিক্ত মাদক সেবনের ফলে একসময় মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে যান। এতে তার স্ত্রী-সন্তান তাকে ছেড়ে চলে যায়।
এ ব্যাপারে মো. তৌহিদুজ্জামান, অফিসার ইনচার্জ, মির্জাগঞ্জ থানা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।