ঢাকা সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

একই প্রশ্নে প্রাথমিক পরীক্ষা, অর্থ আদায়েরও অভিযোগ

একই প্রশ্নে প্রাথমিক পরীক্ষা, অর্থ আদায়েরও অভিযোগ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা একই প্রশ্নে নেওয়ার উদ্যোগসহ প্রশ্নপত্র তৈরির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পরিপত্রের নির্দেশনা না মেনে এ উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন উপজেলার বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

অভিযোগ রয়েছে, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজস্ব উদ্যোগে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সুযোগ না দিয়ে উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একই প্রশ্নপত্রে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ পরিপত্র পরিপন্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক জানান, গত জুলাই মাসে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে কয়েকজন প্রধান শিক্ষককে ডেকে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সদর উপজেলার সব বিদ্যালয়ে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানান।

কিন্তু গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে বলা হয়, প্রত্যেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজ উদ্যোগে প্রান্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করবে। সম্ভব না হলে পার্শ্ববর্তী একাধিক বিদ্যালয় নিয়ে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করতে পারবে। তবে, উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় একসাথে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা সেখানে উল্লেখ নেই।

ওই শিক্ষক আরো বলেন, সভায় কয়েকজন প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রশ্নপত্র তৈরির প্রস্তাব দেন। তবে তাদের প্রস্তাব উপেক্ষা করে উপজেলা পর্যায়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার ভাষ্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজস্বভাবে প্রশ্ন প্রণয়নের সুযোগ না থাকলে মানসম্মত প্রশ্ন তৈরির বিষয়ে শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, সদর উপজেলার ২০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রশ্নপত্রের জন্য অর্থ নেওয়া হচ্ছে। এর একটি অংশ প্রশ্নপত্র ছাপানোর কাজে ব্যয় হলেও অবশিষ্ট অর্থের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কোনো সুস্পষ্ট হিসাব দেওয়া হচ্ছে না।

দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফি বাবদ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির তিনটি পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ৬ টাকা এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৬টি পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ১৬ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অর্থের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের অভিযোগ, ২০১টি বিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর প্রশ্ন ফি বাবদ আদায় করা অর্থের একটি অংশ প্রশ্নপত্র ছাপানোর পর অবশিষ্ট যেটা থাকবে, সেই অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ হিসাব বিদ্যালয়গুলোকে দেওয়া হচ্ছে না।

এছাড়া, পরীক্ষা শুরুর প্রায় পাঁচ দিন আগে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাদের আশঙ্কা, পরীক্ষার কয়েক দিন আগে প্রশ্নপত্র বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেলে এর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত থাকবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, সদর উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডেকে মিটিং করা হয়েছে। সেখানে তারাই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সদর উপজেলার ২০১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য।

তবে, পরিপত্রে এ ধরনের কোনো উল্লেখ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উল্লেখ রয়েছে, একই প্রশ্নে সকল স্কুলে পরীক্ষা নেওয়া যাবে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।

অর্থ আদায়েরও অভিযোগ,প্রাথমিক পরীক্ষা,একই প্রশ্ন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত