
সরকারের তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেছেন, মিয়ানমার হয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সিল্করোড চালু হলে কক্সবাজার আরও উন্নত শহরে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফর করে এসেছেন। তিনি আশা করছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের এই সড়ক শিগগিরই চালু হয়ে যাবে।
আবদাল আহমদ বলেন, অপতথ্য ও গুজবকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে সত্য সাংবাদিকতার মাধ্যমে। সত্য সাংবাদিকতা যদি সঠিকভাবে করা যায়, তাহলে অপতথ্য ও গুজব কিছুই করতে পারবে না।
তিনি শুক্রবার (০৩ জুন) কক্সবাজারে আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তথ্য অধিদফতর প্রতি সপ্তাহে সরকারি কার্যক্রমের ব্রিফিং করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরাও প্রতি মাসে নিজ নিজ দপ্তরের কাজের ব্রিফিং করেন।
তার মতে, সরকার অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে। প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার উদ্বোধন করেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য অধিদফতরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান খান।
কর্মশালায় উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা হাছিনা আক্তার বলেন, “সরকারের নীতি, সিদ্ধান্ত ও উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে সঠিক ও সময়োপযোগীভাবে পৌঁছে দিতে জনসংযোগ কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দুর্যোগ ও সংকটকালে গুজব প্রতিরোধ এবং নির্ভুল তথ্য প্রচারেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য যাচাই ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, এআইভিত্তিক মিডিয়া মনিটরিং, আধুনিক ডিজিটাল নিউজরুম এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলা বিষয়ে উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় বিভ্রান্তি বাড়ছে। অপতথ্য শুধু জনমনে বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।”
তথ্য যাচাই করে প্রচারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা তথ্যপ্রবাহ আরও সহজ করা, নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, “সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারের সমন্বয় আরও জোরদার হয়েছে।”
তিনি বলেন, তৃণমূলের সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “স্বাধীন সাংবাদিকতার পথচলায় অপতথ্য, গুজব ও অপপ্রচার এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পেশাদার সাংবাদিকতার চর্চা আরও শক্তিশালী করতে হবে।”
একই সঙ্গে কক্সবাজারের সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
কর্মশালায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং তথ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।