ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুমন হত্যা: ভাঙ্গায় ১১ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

সুমন হত্যা: ভাঙ্গায় ১১ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়া সুমন শেখ (২২) হত্যা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বরসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নিহত সুমন শেখের বাবা মিলন শেখ বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও পৌরসভার পূর্ব হাশামদিয়া মহল্লার বাসিন্দা সজীব মাতুব্বর-কে।

নিহত সুমন শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মিলন শেখ ও সামেলা বেগম-এর ছেলে এবং পেশায় একজন ফাস্টফুড ব্যবসায়ী ছিলেন।

ঘটনার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে পৌরসভার হাশামদিয়া ও আতাদি মহল্লার অনেক পুরুষ এলাকা ছেড়ে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতের মা সামেলা বেগম বলেন, “সজীব মাতুব্বরসহ যারা আমার ছেলে সুমনকে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। আর কোনো মাকে যেন আমার মতো সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।”

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “সে যত বড় নেতাই হোক না কেন, সুমন হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এ মামলায় কোনো ধরনের তদবির বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজীব মাতুব্বর এ মামলার এক নম্বর আসামি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আজই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সজীব মাতুব্বর-এর শর্টগানের গুলিতে সুমন নিহত হন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দায়ী করেনি।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পুলিশের অভিযান,গ্রেপ্তার,১১ জনের নামে মামলা,ভাঙ্গা,সুমন হত্যা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত