
দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বৃহত্তর পাবনা জেলা (পাবনা ও সিরাজগঞ্জ) এলাকায় গবাদিপশুর জাত উন্নয়নসংক্রান্ত সরকারি কৃত্রিম প্রজনন সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন এআই (কৃত্রিম প্রজনন) টেকনিশিয়ানরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেতন-ভাতার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির সদস্যরা।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় পাবনার ঈশ্বরদী শহরের হাসপাতাল রোডে অবস্থিত বৃহত্তর পাবনা জেলার কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতি, বৃহত্তর পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে অবস্থান ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপ-পরিচালকের নিকট স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা সরকারি বেতন-ভাতার রাজস্ব খাতের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসলেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে তারা কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম, গরুর জাত উন্নয়ন এবং পশুপালনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এক সময় সরকার মাত্র দুই বছরের জন্য মাসে দুই হাজার টাকা সম্মানী দিত, সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করেন।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির পাবনা জেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম-এর সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরদী উপজেলা সভাপতি আলহাজ্ব সাহাবুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি আলী আশরাফ, সেক্রেটারি জামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, চাটমোহর উপজেলা সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাঁথিয়া উপজেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য মনসুর হোসেন, প্রচার সম্পাদক আলাউদ্দিন আলী আজাদ এবং অর্থ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবু।
সমিতির নেতারা জানান, তাদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তারা আশা করছেন। অন্যথায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। অবস্থান ধর্মঘট শেষে জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, ঈশ্বরদীর উপ-পরিচালক ডা. মো. আবু রেজা তালুকদার-এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, এআই টেকনিশিয়ান হিসেবে প্রথম যোগদানের সময় প্রতি মাসে তাদের ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো। পরে মাসিক দুই হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হলেও সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে তারা কোনো ভাতাই পান না।
তিনি দাবি করেন, সরকারকে প্রত্যেকটি সিমেন ডোজের জন্য ৭৫ টাকা করে দিতে হয়। তারা গত অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব খাতে প্রায় ১২ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১ জুলাই থেকে সারা দেশে ৫ হাজার ৪৮২ জন এআই টেকনিশিয়ান দৈনিক হাজিরাভিত্তিক অন্তর্ভুক্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।