ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চার কোটি টাকায় নির্মিত ব্রিজের সুফল থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী

চার কোটি টাকায় নির্মিত ব্রিজের সুফল থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী

টাঙ্গাইল পৌর এলাকার লৌহজং নদীর ওপর নির্মিত কচুয়াডাঙ্গা-চরপাতুলী ব্রিজের কাজ দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছরেও তা শেষ হয়নি। কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সনি এন্টারপ্রাইজ ২০২০ সালে কাজ শুরু করে।

কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২২ সালের মে মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছরেও সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে ব্রিজটির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ।

জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে টাঙ্গাইল পৌরসভার অর্থায়নে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সনি এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট ও কার্নিশ নির্মাণ না করায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি কোনো কাজে আসছে না। উল্টো এটি এলাকাবাসীর ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণাধীন ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়রা বাঁশের মই বেয়ে পারাপার হচ্ছেন। কেউ কেউ এভাবে চলাচল করলেও অধিকাংশ মানুষ দীর্ঘ পথ ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছেন।

বৃদ্ধ, শিশু ও নারীরা সুউচ্চ ব্রিজে মই বেয়ে উঠতে না পেরে প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করছেন। এছাড়া মৃতদেহ দাফনের জন্যও এপাড়ের মানুষকে অনেকটা পথ ঘুরে কবরস্থানে যেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট না করে কাজ বন্ধ রাখায় স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছে না ব্রিজটি। দু'পাশে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মই দিয়ে পারাপার করছে। ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় পণ্য পরিবহনেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নূর নবী বলেন, ‘ঠিকাদার কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে। ব্রিজটি চালু না হওয়ায় আমাদের চলাচলে কষ্ট থেকেই গেছে। অসুস্থ মানুষ ও মরদেহ আনা-নেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই মই দিয়ে ব্রিজে উঠতে-নামতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। মাঝে-মধ্যে বাঁশ ভেঙে গেলে যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।’

স্থানীয় যুবক সুমন মিয়া বলেন, ‘ব্রিজ নির্মাণ হলেও দুই পাশে মাটি ভরাট করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর আগে মই দিয়ে ব্রিজে উঠতে গিয়ে পায়ে লোহার পেরেক ঢুকে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিকার চেয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি।’

টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজের মূল নির্মাণকাজ শেষ করলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়কে মাটি ভরাট করেনি। অসমাপ্ত কাজ রেখে ঠিকাদার চলে গেছে।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সনি এন্টারপ্রাইজের মালিক আসাদুল্লাহ খান সাঈদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

টাঙ্গাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কচুয়াডাঙ্গা-চরপাতুলী ব্রিজটির সংশোধিত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্রিজের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হবে।

বঞ্চিত এলাকাবাসী,সুফল,নির্মিত ব্রিজ,চার কোটি টাকা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত