ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সাতক্ষীরার বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙন

সাতক্ষীরার বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙন

সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনির বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামে বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যেকোনো মুহূর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে, বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুণ্ডু ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আব্দুল আলিম ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, বেতনা নদীর নওয়াপাড়া অংশে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধ ভাঙনে নওয়াপাড়া গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়ি ও জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে এক পাড়ের মানুষ জমি হারাচ্ছে, অপর পাড়ে জমি বাড়ছে।

নদী খননের সময় ভরাট হওয়া স্থান পুরোপুরি খনন না করে আংশিক খনন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে বর্ষাকাল আসায় খননকাজের জন্য নদীতে দেওয়া মাটির বাঁধ ছুটিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু নদী খননের জন্য নির্বাচিত এলাকার বাঁধ না ছুটিয়ে নওয়াপাড়া অংশে বাঁধ ছুটিয়ে দেওয়ায় ওই পাড়ে নদীতে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে খননের সময় অপর পাড়ে যেনতেনভাবে কাজ শুরু করা হলেও তা শেষ করা হয়নি। ফলে নওয়াপাড়া অংশে এখন ভাঙন শুরু হয়েছে।

বর্তমানে ২ থেকে ৩শ হাত বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ১০০ হাত এলাকায় মূল বাঁধের বড় অংশে ভয়াবহ ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বেড়িবাঁধ রক্ষার ব্যবস্থা না করলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুণ্ডু ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আব্দুল আলিম ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও বুধহাটা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু জাহিদ সোহাগ এবং উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় আলহাজ আব্দুল কুদ্দুছ, তারিকুল ইসলাম, হাসান ইকবাল মামুন, খোকন ঢালী, খোকন মোড়লসহ এলাকাবাসী জানান, বাঁধের অবস্থা মোটেই ভালো নয়। ফাটল বড় হতে হতে প্রায় ১০০ হাত এলাকার মূল বাঁধের মাটিতে ধস নেমেছে। বাঁধ রক্ষা করা না গেলে বুধহাটা ইউনিয়ন, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইউনিয়নের শত শত গ্রাম, হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি এবং মৎস্যঘের ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাউবোর এসও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। বাঁধ রক্ষায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তারা এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন।

ফাটল ও ভাঙন,বেড়িবাঁধ,বেতনা নদী,সাতক্ষীরা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত