
সীমান্তবর্তী যশোরের শার্শা উপজেলায় মাদক, চোরাচালান ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দাবি করেছে শার্শা থানা পুলিশ। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে পরিচালিত অভিযানে ৮৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শার্শা থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মোট ৮৬ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৩৫ জন ছিলেন আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। গ্রেফতারদের মধ্যে ১১ জন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, যারা দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন।
মাদকবিরোধী অভিযানে ২৭টি মামলায় ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ৬৮০ পিস ইয়াবা, ১ হাজার ১৮৪ বোতল এস্কাফ সিরাপ এবং ৭১০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দিয়ে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আলোচ্য সময়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দুইজন এবং ধর্ষণ মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন অপরাধে আরও ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ সময়ে পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত কোনো মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
পুলিশ সূত্র জানায়, সীমান্তঘেঁষা শার্শা উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনাই নয়, অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও জনসমাগমস্থলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে অপরাধ দমনে কাজ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার, মাদক নির্মূল, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে শার্শা থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।”
তিনি বলেন, “অপরাধী যে-ই হোক, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের সহযোগিতায় একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত শার্শা গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
পাশাপাশি কোনো অপরাধ বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।