ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

২৫ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ

২৫ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের জিয়াখুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া জমি রেজিস্ট্রি দিয়ে বিদ্যালয় নির্মাণ, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে ২৫ বছর ধরে বেতন-ভাতা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হওয়ার পর থেকে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে স্বাক্ষর করে ২৫ বছর ধরে বেতন-ভাতা ও সরকারি সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের কোনো উন্নয়নমূলক কাজ না করে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বীরগঞ্জ উপজেলায় সহকারী শিক্ষা অফিসার হিসেবে মেনহাজুল ইসলাম যোগদানের পর জিয়াখুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে এলাকাবাসী তার কাছে অভিযোগ করেন। তারা বলেন, মো. মজিবর রহমান দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে কীভাবে সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করছেন।

এছাড়া বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ না করে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন এবং সরকারি বই বিক্রির অভিযোগও করেন তারা।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ের নামে যে জমি রেজিস্ট্রি দেওয়া হয়েছে সেখানে বিদ্যালয় নির্মাণ না করে সরকারি খাস জমিতে বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। আর রেজিস্ট্রিকৃত জমি তিনি নিজেই চাষাবাদ করছেন।

বিষয়টি সহকারী শিক্ষা অফিসার মেনহাজুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) এ কে এম শাহাজাহান সিদ্দিককে অবহিত করলে তিনি গত সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পান প্রধান শিক্ষক সাউন্ড বক্সে গান শুনছেন এবং বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী নেই।

মঙ্গলবার সকালে এ প্রতিবেদক জিয়াখুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখতে পান, প্রধান শিক্ষক মো. মজিবর রহমান অনুপস্থিত। দুজন শিক্ষক পাঁচজন শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন। প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষকরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এলাকাবাসী জানান, শুধুমাত্র পরীক্ষার সময় পাশের একটি মাদ্রাসা থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষা নেওয়া হয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থী ও সরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। বই বিতরণ রেজিস্টারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নামের তালিকারও মিল নেই।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি ও রহিম বখস দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে দপ্তরি নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে মিলনের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেওয়া, ডালাগ্রাম ও পূর্ব চাউলিয়া রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের কথা বলে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাহজিদা হকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, উক্ত প্রধান শিক্ষক ২৫ বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে কীভাবে সরকারি বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন, সে বিষয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষা অফিসার তাকে অবহিত করেননি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম শাহাজাহান সিদ্দিকের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি অভিযোগের ভিত্তিতে পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পাই উক্ত প্রধান শিক্ষক সাউন্ড বক্সে গান শুনছিলেন। বিদ্যালয়ে মাত্র ২-৪ জন শিক্ষার্থী ছিল। উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অভিযোগ,বেতন-ভাতা গ্রহণ,কর্মস্থলে অনুপস্থিত,২৫ বছর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত